.

Breaking

Sunday, 3 November 2019

November 03, 2019

সামাজিক অবক্ষয় রোধে লেখকের ভূমিকা

প্রফেসর মনসুর উর রহমান


 দেশে দেশে যুগে যুগে সমাজে প্রতিটি মানুষের একটি নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে।এ ভূমিকা যেমন ব্যাক্তি তথা জাতীয় কল্যানের অংশীদার , তেমনি ব্যক্তি অথবা জাতীয় অবক্ষয়ের দায়ভাগীও বটে।এ দিক থেকে সাধারন মানুষের সারিতে বুদ্ধিজীবি বিজ্ঞানী লেখক কবি শিল্পী সাহিত্যিকদের একই ভূমিকা ।
কারন জাতীর বহমান জীবন ধারা হতে এরা কেউ আলাদা নন। জাতীয় জীবনের সবকিছুর  মধ্যে থেকে তাদের নিশ্বাস নিতে হয় , বেঁচে থাকতে হয়। 
তবু এ কথা সত্য যে সর্ব যুগের সচেতন বিন্দুতে বুদ্ধিজীবি কবি সাহিত্যিকরা বাস করেন। যুগের  বা সময়ের গন্ধ শুঁকে তারা বুঝতে পারেন যুগের গতি প্রকৃতির পট পরিবর্তনের আগাম আভাস।নিসন্দেহে এ এক স্বাতন্ত্র এবং অসাধারন শক্তি। এ শক্তিকে তারা লেখনিতে কাজে লাগান। সমাজের সাধারন জীবন জীবিকা থেকে সংগৃহিত তাদের লেখার খোরাক ও ভাবের সমিধ্ এ শক্তি বলে অনন্য হয়ে ওঠে। তবে জীবনকে দেখার ও তা থেকে উপকরন সংগ্রহের দৃষ্টিভংগি মনন ও জীবনবোধ অবশ্যই কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ দিক থেকে উদ্দেশ্যহীন আর ‘আর্ট ফর আর্ট সেকে’র লেখক কবিরা কার্যত প্রত্যখ্যাত হয়ে পড়েন। কোন মহত্তর জীবনভাবনা বা দর্শনের আলোকে যদি লেখক মনের যাত্রাপথ আলোকিত না থাকে, 
 তবে চালচলনে পেষাকআষাকে গোঁফদাড়িতে শরীরি পরিবর্তন এনে মদনারী বিহারের মত বদ অভ্যাস আয়ত্ব করে দুচারদিন সাহিত্যের চাটুকার সাজলে , কিছু তদ্রুপ ভক্তের করতালি স্তুতি লাভ করলে , জাতি তার কাছ থেকে অনেক কিছু পেলো তা ভাবা নিতান্তই মুর্খতার সামিল। কারন এ রূপ ভংগি দিয়ে শুধুই লোক ভোলানো যায় ,তাদের হৃদয় জয় করা যায় না। কিছু শব্দকে ঘষে মেজে অলংকৃত করে হাওয়াই মিঠাইএর মত ফ্যান্টাসি রচনা করা যায় , লোকায়ত সাহিত্য রচনা করা যায় না।সত্যিকার অর্থে সাহিত্যে জাতির জন্য কোন দর্শনের নির্মল জলের ঝরনা বহাতে না পারলে , লেখকরা সামাজিক দায়িত্ব পালনে যে সম্পূর্ন ব্যর্থ এ কথা দ্ব্যর্থ কন্ঠে ঘোষনা করা যায়।
শিল্পী আর লেখকরা কি লেখেন ? ইতিহাসকার বা সমাজশাস্ত্রীর মত তারা সামাজিক আর্থিক ও ধর্মীয় উত্থান পতনের ইতিকথা বা ন্যায়শাস্ত্র লেখেন না নিশ্চয়।তারা সে সবের মধ্যে যুগবানীকে সত্য করে তোলেন। যে বানী মানব মনের রুদ্ধ দ্বারে মাথা কুটে মরে , তাকে প্রকাশের শিল্পমন্ডিত পথ করে দেন তারা।
এখন প্রশ্ন হলো ,মূলত লেখক কারা ? কোন কিছু লিখলেই যদি লেখক হয়ে যায় তবে মুদির দোকানের টালি খাতার লেখক থেকে শুরু করে সংবাদপত্র দলিল দস্তাবেজ পাঠ্যবই নোটবই ইতিহাস ভূগোল নাটক কাব্য উপন্যাস লেখার কাজ যারা করেন  তারা সবাই লেখক। এ অর্থে দেশের অসংখ্য লোক লেখক। আর যদি লেখক বলতে কবি সাহিত্যিকদের বোঝানা হয় ,  তবে তাদের ভিন্নতর সামাজিক দায়দায়িত্ব  সম্পর্কে ভিন্ন কিছু বলার অবকাশ এসে যায়।
একটা কথা এখানে বলে রাখা ভাল যে , এ লেখকরা সমাজ সংস্কারক শাস্ত্রগুরু অথবা দন্ডধারী শাসক অথবা পাঠশালার বেত্রধারী শিক্ষক নন। কাজেই সমাজের নিষ্ঠ অনিষ্ঠ উন্নয়ন অবক্ষয়ের দায়দায়িত্ব 
উক্ত বক্তিদের উপর যেমন করে বর্তায় লেখকদের উপর তেমন করে নয়।
চরিত্রিক অধপতন ও মানবিক মূল্যবোধের অভাব থেকে সামাজিক তথা জাতীয় অবক্ষয় দেখা দেয়। আত্মসুখ অন্বেষা থেকে যে স্বার্থপরতার প্রাচীর গড়ে তোলে ব্যক্তি মানুষ  তা থেকে ক্রমান্বয়ে জাতীয় জীবনের যাবতীয় কলানমুখী সৎ ভাবনা ও কার্যক্রম অক্রান্ত হয়ে পড়ে। যে মহৎ অনুপ্রেরনা বর্তমান ও ভবিষ্যত নাগরিকদের সার্বিক উৎকর্ষের চালিকা শক্তি , তাকে ক্রমশ অহত নিহত করা হয়। ফলে পারস্পারিক অবিশ্বাস তা থেকে জিঘাংসা হনন ইচ্ছা প্রচন্ড আকার ধারন করে। এর ফলে যুদ্ধ বিগ্রহ
দুর্ভিক্ষ অরাজকতা যাবতীয় সামাজিক অনাচার অত্যাচারের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
এমত অবস্থায় লেখকের  কার্যকর ভূমিকা কি ? এ ক্ষেত্রে সমাজসেবী বা ধর্মগুরুরা যেমন সৎকর্ম অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজপতি আর শাসকরা আইন ঘোষনা, বিচার আচার শ্লোগান বা বল প্রয়োগের মাধ্যমে অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন। শিল্পী লেখকরা তেমন করে পারেন না। কারন তারা উক্ত কোন দলের নন। তাদের শক্তি তাদের লেখার ভাষা ভাবের মনোবল। এ ভাবে তারা ভাষায় সামাজিক অবক্ষয়ের ও মানসিক বিপর্যয়ের যে চিত্র আঁকেন তাতে মানবিক উপপলব্ধির ক্ষেত্র তৈরি হয়। বিক্ষত আত্মার যা আনন্দ ধাম । যেখানে মন মানস সকল ক্ষুদ্রত্ব ও সীমাবদ্ধতার গন্ডি থেকে মুক্ত হয়ে উদার হয়ে ওঠে , সুস্থ হয়ে ওঠে। এ সুস্থ্য মানুষ সকল ক্ষুদ্র স্বার্থবুদ্ধি প্রজাত দুষ্কর্ম ও অধর্মের গন্ডি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে । শিল্প সাহিত্যের মাঝ দিয়ে জীবন ও সমাজের  যে কল্যান হয় তা মনের  মোহ মুক্তির কল্যান।
তবে অর্থ স্বার্থ ক্ষমতা অর্জন আর সুনাম কুড়াবার মানসে মানুষের আত্মার চত্বরে আনন্দ সৃষ্টির 
নামে লোভ কুবাসনা জাগ্রত করে শুড়শুড়ি দিয়ে তাকে অধপতিত করে , অথবা আত্মহননের পথ পরিষ্কার 
করে দেয় , তারা লেখক অর্থে নোংরা নকল ব্যবসায়ী। 
আগেই বলেছি গুরুমহাশয়ের মত বেত মেরে ভয় দেখিয়ে মানুষকে সৎ ও শুদ্ধ করার দায়িত্ব লেখকের নয়। অথবা রাস্তার মোড়ে মোড়ে মঞ্চ বেঁধে তাতে দাঁড়িয়ে তারস্বরে চেঁচিয়ে মানুষকে সৎ হবার
জ্বালাময়ী ভাষন দেবার কাজও লেখকদের নয়। তাদের কাজ মানব মনের তন্ত্রিতে এমন এক সুর বাজিয়ে দেয়া যা তাকে মনের এক আলোকিত বন্দরে নিয়ে যাবে । যেখানে তার মনের প্রবৃত্তিগুলো প্রেমের এক স্নিগ্ধ ঝরনা ধারায় স্নাত হয়ে ওঠে। নিজের সীমাবদ্ধ ও স্বার্থপর ক্ষুদ্র আবেষ্টনীর মধ্যে যে অপবিত্রতা লোভ লালসা তাকে গ্রাস করে থাকে তা থেকে মুক্তি প্রচেষ্টায় মন ব্যাকুলিত হয়। এমনি করে ব্যক্তি তথা জাতিকে লেখকরা যাবতীয় অবক্ষয়ের হাত হতে বাঁচাতে পারে।
এ প্রসংগে এ কথা অবশ্যই এসে যাবে যে , লেখক সমাজচিত্র আঁকেন , সমাজও সে চিত্রিত কর্ম থেকে কিছু শেখে। এ শেখাটা যদিও পাঠশালার শেখার মত নয় ,তবুও লেখক মনের দর্শনের স্কুলে জাতিকে যেতে হয়।আর এ দর্শনের ক্ষেত্রে লেখকদের মূল্যবোধ বেঁধে দেয়ার দায়িত্ব অপেক্ষাকৃত বেশি।
 যে শক্তি ভাল করতে পারে , সে শক্তি মন্দ করতেও সক্ষম। জাতীয় অবক্ষয়ের অন্ধকার থেকে লেখক যেমন ম ুক্তির সিংহদ্বারে জাতিকে ডাক দিয়ে নিয়ে যেতে পারেন, তেমনি জীবনের পরাজয় ও অবক্ষয়ের নিগড়ে আত্মার দাসত্বকে চিরস্থায়ী করে তোলার পথ তৈরি করতে পারেন। তবে আশার কথাÑ
জীবন জগতের এমন এক কল্যানমুখী জীবনের মূল্যবোধ শিল্পী স্বত্তার উন্মেষের মর্মবেদিতে সক্রিয় থাকে যে , জীবন জগতের প্রতি এক অকৃত্রিম ভালবাসা ও এক মঙ্গময় প্রচন্ড স্পৃহা তার শিল্পী জীবনের পরবর্তী পরিমন্ডল রচনা করে দেয়। 
অনেক ক্ষেত্রে লেখকদের সামাজিক ও জাতীয় অত্যাচার অনাচার প্রভৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার কন্ঠ ধ্বনিত হতে শোনা যায় Ñ  কোন রাজনৈতিক বক্তার মত ,যুদ্ধের সেনাপতির মত।তাতে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরনা আসে নিসন্দেহে , কিন্তু পরিপূর্ন সুস্থ্য হবার , ক্ষুদ্রত্ব থেকে মুক্তি পাবার , আত্ম উপলব্ধি ঘটাবার কাজ তা থেকে পুরোপুরি সাধিত হয়না। সেজন্য শিল্পী ও কবিকন্ঠের উচ্চকিত সোচ্চার বানীর  সাথে শৈল্পিক স্পর্শ না লাগলে সে বানী মানব মনের চিরায়ত অন্তর্বানী হয়ে ওঠে না। বরং তা শ্লোগানই হয়ে যায়। আর মর্মমথিত অমর বানী জীবন প্রবাহে এক শুদ্ধ প্রস্রবন সৃষ্টি করে দেয় , যার জলধারা যুগ থেকে যুগে গড়িয়ে বহু জাতির মানস উপকুলে এক পরম তীর্থ গড়ে তোলে। সে তীর্থ অবগাহনে জাতি পরিশুদ্ধ ও পাপ মুক্ত হয়। এখানেই লেখকের সত্যিকার সার্থকতা।
প্রশ্ন উঠতে পারে  অবক্ষয়কে আরো ঘনিভূত করার বা প্রশ্রয় দেবার কাজে লেখকদের কি কোন পাক্ষিক ভূমিকা নেই ? বর্তমান বই পুস্তকের বাজারে প্রবেশ করলে একজন সাধারন সুস্থ্য মানুষ বিনা দ্বিধায় বলতে পারেন Ñ বাজার জাতকৃত সব প্রকাশিত বই পুস্তক ও পত্রপত্রিকার লেখক যদি শিল্পী সাহিত্যিক কবি হন তবে জাতীয় অবক্ষয়কে গাঢ় করার জন্য লেখকদের প্রচুর ভূমিকা রয়েছে। চিত্ত বিনোদনের নামে , ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে বিকৃত ধ্যান ধারনা প্রকাশে , মুখরোচক জৈবিক উত্তেজক কাহিনী সৃষ্টির নামে, ব্যবসা বানিজ্য ও প্রগতির নামে বিদেশী চোরাই পানীয়ের মত নেশা উজ্জীবক পত্র পত্রিকা আর বইপুস্তক প্রবীন নবীন সব পাঠককে উপহার দেয়া হচ্ছে তা নিসন্দেহে আমাদের মন মানসিকতায় এক আত্মঘাতি কুফল বয়ে আনছে। সিনেমার কাহিনী যারা লেখেন তারাও এ ব্যাপারে অগ্রনী। এদেরকে লেখক সমাজ থেকে বহিষ্কার করতে না পারলে এদের দুষ্কর্মের দায়ভাগ সব লেখকদের বহন করতে হবে। এ সব সত্বেও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের ক্রমপ্রবাহে আমরা মোটমুটি ভাবে জীবন বোধের ক্ষেত্রে যে সুফল পেয়েছি তা একাধারে আমাদের মূল্যবোধের প্রবৃদ্ধি ঘটিয়েছে এবং অন্যায় অনাচার অধর্মাচার অত্যাচার কুসংস্কারের বিরুদ্ধে  রুখে দাঁড়াবার মত সকল আত্মিক শক্তির উৎস হয়েছে । বৃটিশ বিরোধী সংগ্রাম বাংলা ভাষা আন্দোলন স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের মন মানসকে সজীব চেতনায় উদ্দীপ্ত করে তুলেছে। লেখকরা বন্দুক হাতে যুদ্ধ করেনি ঠিকই , কিন্তু অসংখ্য মানুষকে জীবনের সকল যুদ্ধে অগ্নি সৈনিক হবার আত্মোপলব্ধি দিয়েছে।
বর্তমানে আজো আমাদের জাতীয় জীবনের সকল অবক্ষয়ের প্রতিপক্ষে সৈনিক হবার মানসিক শক্তিশালী মনোবৃত্তি তৈরি করে দিতে পারে আমাদের প্রকৃত লেখকরা। 

ÑÑÑÑÑÑÑÑÑÑÑÑÑÑÑÑÑÑÑÑÑ     
November 03, 2019

ভাষার অবিভাবক -প্রফেসর মনসুর উর রহমান

-প্রফেসর মনসুর উর রহমান


আমরা পারিবারিক  বা পৈত্রিক সূত্রে মুখের ভাষা পেলেও আমরা কেউই এককভাবে  সে সব সূত্র ধরে ভাষার বাবা দাদা বা অবিভাবক হতে পারি না।আর তা হওয়া কখনো সম্ভবও নয়। বিদ্যাসাগর বা রবীন্দ্রনাথের পক্ষ থেকেও  কেউ এ ধরনের হাস্যকর দাবি তুলতে পারেন না ।অথচ আজকাল ভাষা সংক্রান্ত গুরুগম্ভির আর তত্বাবধায়ক সব বক্তব্য  মন্তব্য শুনে বা পড়ে মনে হচ্ছে এতদিনে ভাষার শক্ত গোছের কিছু বাপ দাদা বা গার্জেন এমন কি প্রশাসক তৈরি হয়ে গেছেন। এরা আর যাই বলুন ,লিখুন বা করুন না কেন সবকিছুতে এরা ভাষাকে কোথাও বিধবা , কোথাও মাতৃপিতৃহীন , কোথাও বা অনাথ করে দেবার কাজটি করতে পারবেন এমন মনে করে থাকেন । তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধজেহাদ ঘোষনার কথা যারা
বলবেন , তাদের আমি এই বলে নিরস্ত করতে চাই যে , ভাষার  আপন শক্তিতে তার প্রতিরোধ করার জন্য  যথেষ্ট ।

ভাষা মানুষের যাবতীয় এবং সমুদয় বিভিন্ন বিচিত্র প্রকাশের মাধ্যম হয়ে কখনো যুদ্ধের , কখনো প্রনয়ের , কখনো রাজগৃহের , কখনো পন্যকুঠিরের ,কখনো মনের , কখনো বনের , কখনো আটপৌরে 
প্রয়োজন মেটার কাজটি করে আসছে। এ আসাটা ব্যক্তিগত কারো নির্দেশে বা উৎকোচে হচ্ছে না। এটা স্বাভাবিক ধারাতেই হয়ে আসছে ।

অনেক সময় ভাষাশিল্পী বা কবি সাহিতিকে ভাষাস্রষ্টা বলে তার সম্মানের আধিক্য ঘটানোর জন্য এক শ‘র মধ্যে এক শ ছয় নম্বর দেয়ার মত ব্যাপারটি করে ফেলি। আসলে কেউ ভাষা স্রষ্টাও নন ভাষার জন্মদাতাও নন। তাদের দিয়ে ভাষা অলংকৃত , সুশোভিত আর চকচকে হতে পারে ।এ কৃতিত্বের কাজটুকু ভাষা শিল্পীর । এর সাথে ভাষাশিল্পীর সবচেয়ে বড় কাজ যেটা সেটা হলো  Ñভাষার সত্যিকার প্রান প্রবাহ আবিষ্কার করা । এ প্রবাহের মদ্যেই ভাষার সত্যিকার মেজাজ বা পরিচয় ধরা পড়ে । শহুরে 
ভাষা নিয়ে যতই বিব্রত বোধ করি না কেন , আসলে ভাষার াকৃত্রিম প্রান প্রবাহ আপন গতিতে বয়ে চলেছে । তাই সজ্জিত ভাষা যতই তার অকৃত্রিম ভাষার সাথে যোগাযোগ নিবিড় করে তুলবে , ততই তার প্রানশক্তি বাড়বে ।

ভাষার এ অকৃত্রিম প্রান প্রবাহ বা মেজাজ সম্পর্কে যাদের জ্ঞান থাকে না বা তাকে এড়িয়ে চলার একটা অহংকার থাকে , তারা আর যাই করুন ভাষার প্রান প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না । বিদ্যাসাগরকে গদ্য ভাষা শিল্পীর সর্বাগ্রবর্তী ভূমিকা পালনের জন্য স্বর্নমুকুট দিলেও বায়লা ভাষার সত্যিকার প্রান প্রতিষ্ঠা তাকে দিয়ে হয়নি । এমনকি বঙ্কিম মসাররফ সেই বিদ্যাসাগরের ভূমিকাকে দীর্ঘায়িত করেছেন মাত্র।
বাংলা ভাষার প্রকৃত মেজাজ আবিষ্কারের চর্চা যাদের হাত দিয়ে শুরু হয়েছিলো তাদের মধ্যে প্যারীচাঁদ কালীপ্রসন্ন সিংহ  থেকে বীরবল বা প্রমথ চৌধুরী আছেন। তাদের ভাষা চর্চার মধ্যে ভাষার সে খাঁটি প্রানপ্রবাহ আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে । রবীন্দ্রনাথও পূর্ব তীর ছেড়ে পরবর্তীতে পরের তীরে তরী ভিড়িয়েছেন 
 এ ধারাকে প্রতিরোধ করার মত বোকামি আর কেউ করেননি।
ভাষা রাজদরবারে রানী হয়ে ওঠার চেয়ে সর্ব সাধারন্যে গৃহবধু হয়ে থাকতে বেশি ভালবাসে।
কারন তাতে তার প্রানের উপর অলংকারের অযথা অড়ম্বর আর বাড়তি বোঝা চাপানো হয়না।
যাহোক ,ভাষার প্রকৃত প্রানশক্তি লুকিয়ে থাকে তার শব্দের মধ্যে। তাই ভাষার প্রশ্নে এই শব্দ নিয়ে বিস্তর হৈ চৈ হয়। এ প্রসঙ্গে আমি একটা সংক্ষিপ্ত ধারাবাহিক সমিক্ষায় আসতে চাই । মোটমুটি ভাবে ভারতীয় তথা নব্যভারতীয় আর্য ভাষা থেকে যদি আমরা বাংলা ভাষার পথ পরিক্রমার উৎসসূত্র আবিষ্কার বা চিহ্নিত করতে চাই ,তাহলে পালি প্রাকৃত অপভ্রংশ থেকে আজকের উড়িয়া অসমিয়া বাংলা প্রভৃতি ভাষার মধ্যে এক অকৃত্রিম ও স্বাভাবিক প্রানপ্রবাহ আবিষ্কার করতে পারবো। যে অকৃত্রিম ও স্বাভাবিক প্রান প্রবাহ এ সব ভাষা অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে আজো একই। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে এ প্রবাহ খাত পরিবর্তন করেছে মাত্র। আর খাত পরিবর্তনের সময় সে সব পরিবর্তনের চিহ্ন স্বরূপ নতুন পোষাক পরিচ্ছদ, নতুন শব্দ নতুন ভাব নানা ভাবে এসে যুক্ত হয়েছে। এ কথার সত্যতা মিলবে যদি উপমহাদেশের সব অঞ্চলের লোকসাহিত্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয় আর তার আঞ্চলিক ভাষার অভিধান তৈরি করে তাদের তুলনামূলক আলোচনা করা যায়। কারন যে বৃহৎ জনগোষ্ঠির ভাব প্রকাশের গুরু দায়িত্ব ভাষা বহন করে চলে , সে জনগোষ্ঠির মন মেজাজ পারিবারিক ও সামাজিক আচার আচরন চালচলন ব্যবহারকে অস্বীকার না করে ভাষা গ্রহন করে নিয়েছে। 

এটা সম্ভব হয়েছে ভাষার নিজস্ব শক্তির দ্বারা । ভাষার  নিজস্ব শক্তি কোন শাসনের তোয়াক্কা রাখে না। এ শক্তিকে রাজ শাসনে শৃংখলিত করে দরবারে রাজকীয় মর্যাদায় ধরে রাখার  যত চেষ্টাই হোক , কার্যত গনদরবারে এ শক্তির পরিপূর্ন বিকাশ ঘটে। রাজদরবারে তৈরি শব্দ সম্ভার চিরকাল পরিত্যক্ত হয় ভদ্রভাবে।বিদেশী নতুন শব্দ আমদানী করে যেমন কোন ভাষাকে ধ্বংস করা যায় না , তেমনি ভাষার সত্যিকার প্রান প্রবাহকে নি®প্রান করার জন্য সে প্রবাহকে একেবারে থামিয়ে দেয়া যায়না। তবুও এ ধরনের প্রচেষ্টা স্বার্থবাদীরা চিরকাল করে থাকে।
মানুষের বাকযন্ত্র সতত সরল ও সহজ উচ্চারনে বেশি অভ্যস্ত। তাই যে শব্দের উচ্চারন কষ্টকর হয়ে ওঠে তা হয় পরিত্যজ্য , না হয় সরলিকৃত হয়ে ব্যবহৃত হতে থাকে। ইংরেজীর কনষ্টবল ও পুলিশ শব্দ দুটো ইংরেজ আমলে বাংলা ভাষায় প্রচলিত হলে বাকযন্ত্র পুলিশ শব্দটাকেই স্বাগতম জানিয়েছে এবং
ধরে রেখেছে। এমনি করে সেপাহী শব্দটাকে সরল করে সেপাই করে নিয়েছে। আইন জারি করে দিলেও কনষ্টবল শব্দটিকে বাংলাভাষীদের কাছে পুলিশের মত অমন গ্রহনযোগ্য করে তোলা যাবে না। তাই পুলিশের তৈরি করা প্রতিশব্দ আরক্ষা-কে বাংলাতে এ যাবত চালু করা যায়নি।
ভাষার এ নিজস্ব গতি আর প্রানশক্তি না থাকলে পালি আর প্রাকৃত আজো আমাদের মুখের ভাষা থেকে যেতো। অথবা ইন্দোইউরোপিয়াম ভাষা তার যাত্রাপথের প্রথমেই স্থির হয়ে যেতো আজ অবধি।
একটি ভাষা তার স্বকীয় সত্ত¡ায় স্পষ্ট হয়ে ওঠার জন্য দীর্ঘ তার পথপরিক্রমায় নিজ ভান্ডারে অন্য ভাষার শব্দ অলংকার বাক্য গ্রহন করে এবং ব্যবহারে তা নিজস্ব করে নেয়। তারও কিছু অনিবার্য কারন রয়েছে। অনেক গুলো কারনের মধ্যে যে গুলোর প্রাধান্য স্বীকার্য সে সব হলো Ñ রাজনীতিক,ধর্মীয় ও বানিজ্যিক।
 এ সব কারনে এক ভাষার শব্দ অলংকার বাক্য আরেক ভাষায় এসে স্থান করে নেয়।বাংলা ভাষাতেও এ ভাবে বহু বিদেশী শব্দ বাক্য অলংকার প্রবেশ করে এ দেশীয় হয়ে গেছে। হয়ে যাওয়ার ব্যপারে যে সব প্রক্রিয়া আর পদ্ধতি রয়েছে তা রীতিমত ধ্বনিতত্ত¡ ও তুলনামূলক ভাষাতত্বের ব্যাপার। এ পরিসরে তার আলোচনা করা সম্ভব নয়। তবে এতটুকু বলা যাবে বাংলা ভাষা তার নিজস্ব পদ্ধতিতে তা করে নিয়েছে।

রাজনীতিক ধর্মীয় ও বানিজ্যিক কারনে যে পরিমান বিদেশী শব্দ বাংলা ভাষায় কখনো পরিপূর্ন কখনো আংশিক ভাবে এসে এ দেশীয় হয়ে গেছে এবং অর্থের দিক থেকে কখনো বিস্তৃত কখনো সংকুচিত হয়েছে , তাকে নিজস্ব করে নেবার যে ক্ষমতা সেটা বাংলা ভাষার  তথা যে কোন ভাষার নিজস্ব ক্ষমতা। এ ক্ষমতাকে বলা হয় ভাষার শোষন ক্ষমতা বা গ্রহন ক্ষমতা। এ ক্ষমতা কৃপন নয় বরং উদার।এ ক্ষমতা যে ভাষায় নেই , সে ভাষা মৃত হতে বাধ্য। এ রকম উদাহরন সর্বাপেক্ষা স্পষ্ট পন্ডিতগনের সৃষ্ট ভাষা সংস্কৃতের ক্ষেত্রে । সংস্কৃত ভাষার সীমাবদ্ধতা এবং গুরুগম্ভির ভারত্ব ভাষার খরতর স্রোতের ধারায় মিলিত হতে  পারেনি। সে জন্য মুখের ভাষা হয়ে বেঁচে থাকার ক্ষমতা অর্জন করেনি সংস্কৃত ভাষা। 

কোন নদী যেমন বহু জনপদ অতিক্রম কালে অঞ্চল বিশেষের ছোটখাটো খাড়ি নদীনালা খালবিল
প্রভৃতির জলধারাকে নিজের বেগবান ধারায় এক করে নেয় আর তাতে তার প্রান শক্তি বেড়ে যায়, তেমনি  বাংলা ভাষাও পারিপার্শ্বিক অনেক ভাষার শব্দ বাক্য অলংকার গ্রহন করে তার শাব্দিক আর আত্মিক শক্তিকে বাড়িয়ে নিয়েছে অনেক পরিমানে। এ কারনে পর্তুগীজ ডাচ ফরাসী চীনা ইংরেজী আরবী ফারসী শব্দ বাংলা ভাষায় এসেছে, এসেছে তাদের অনেক প্রবাদ বাক্যরীতি অলংকার। জনগনের ব্যবহারিক জীবনে যে সব বিদেশী শব্দ প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয়েছে , সে সব শব্দকে তারা সযতেœ রক্ষা করে চলেছে আজো।
জনগনই ভাষার রক্ষক আর অবিভাবক। ভাষা জনগনের সাথে অপরিহার্যভাবে জড়িত বলে ভাষার মৃত্যুতে জাতির মৃত্যু অবশ্যম্ভাবি হয়ে ওঠে। তাই ভাষাকে রক্ষ করতেই হয়। এ দিক থেকে ভাষার অবিভাবক জনগন। জনগনের প্রবাহমান সবাক জীবন যাত্রার মাঝে যেখানে ভাষা নিজস্ব গতিপথ নিজে সৃষ্টি করে নিতে পারে সেখানে ভাষার শব্দ আর তার মন মেজাজ নিয়ে হৈ চৈ কান্ড বাধাবার দায়িত্ব কোন 
ব্যক্তি বা দল বিশেষের থাকতে পারে না। অথচ যারা চান ভাষা তাদের মনোমত হবে , তাদের কথামত ভাষা শব্দ গ্রহন বর্জন করবে ,তারা যে নিতান্ত অরন্যে রোদন করেন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
ফরাসী ইংরেজী আরবী প্রভৃতি ভাষাও তো পারিপার্শ্বিক বহু বিদেশী ভাষার শব্দ গ্রহন করে সাবলিলভাবে নিজের করে ফেলেছে। তাতে তো তার মর্যাদাহানী হয়নি।ভাষার এ হেন মানসিকতার সাথে যাদের সমামান্যতম পরিচয় আছে তার কখনোই বাংলা ভাষায় আগত বিদেশী শব্দ যেমন পর্তুগীজ , ফরাসি ,ইংরেজী ,আরবী ,ফরাসি শব্দ ঝেটিয়ে দূর করার মত অমন হাস্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলবেন  
  না।
রবীন্দ্রনাথ এক সময় কাব্যে নজরুল ইসলামের ‘খুন’ শব্দ ব্যবহারে মনক্ষুন্ন হয়ে ঠান্ডা বিরোধের অবতারনা করেছিলেন। নজরুল ইসলামো অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। পরে প্রমথ চৌধুরী ব্যাপারটার একটা সুরাহা করতে পেরেছিলেন। অথচ রবীন্দ্রনাথ অবাংলা শব্দ ব্যবহারের ব্যাপারে  অসহিষ্ণু নির্বোধ
দের আপোষমুখী হতে বলেছেন। তিনি স্মরন করে দিয়েছেন Ñ খোদ হিন্দু শব্দটাও মুছলমানদের দেয়া।
এ নামের ভারতবর্ষ আজো হিন্দুস্থান আর তার ধর্ম হিন্দুধর্ম।খোদ বাংলা নামটাও তো মুছলমানদের সৃষ্টি।
আরবী প্রত্যায়ন্ত এ শব্দ দেখে যারা ক্ষেপে গিয়ে ‘বাংলা’শব্দটাও ঝেটিয়ে দূর করতে চাইবেন তারা তো সরাসরি আত্মহত্যা করে বসবেন। 
এর পরেও কথা থাকে। শুধুমাত্র এক লক্ষ টাকার একখানা নোট ছাপালেই বাজারে সে টাকার ব্যবহার শুরু হয়ে যাবে , তা ভাবা যাবে ন্ া।এক লক্ষ টাকার নোটটাকে বাজারে চালু রাখতে গেলে সম পরিমানের একশত পাঁচশত  তার সাথে দশ পাঁচ এক টাকার নোট ছাপাতে হবে। এমনকি কিছু খুচরো মুদ্রাও তৈরি করতে হবে। তেমনি কোন ভাষা কোন বস্তু বা বিষয়ের একটি মাত্র শব্দ নিয়ে সম্বৃদ্ধ হতে পারে না। এমন কি চলার গতিবেগ অর্জন করতে পারে না।
ভাষ্যের পরিধি সৌকর্য ওজন দৈর্ঘ প্রস্থ  হ্রস্বত্ব বেধ গুর ুত্ব এক কথায় ভাবের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযোগি করার জন্য একটি বস্তু বা বিষয়ের কিছু সংখ্যক শব্দ থাকা চাই। জীবন্ত ভাষা তাই প্রয়োজন মত প্রতি শব্দ আহরন করে থাকে। যাতে উক্ত প্রয়োজন মেটানোর সাথে সাথে ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষনের পথ তৈরি করতে পারে। 
 যে ভাষাতে শব্দের যত বেশি প্রতি শব্দ থাকে সে ভাষা ও তার  শব্দ ভান্ডার তত বেশি ধনী। অথচ বাংলা একটি ধনী ভাষা হওয়া সত্বেও এমন কিছু একক শব্দের অধিকারী , যা আদতে বিদেশী শব্দ। তার বাংলায় কোন যুৎসই প্রতিশব্দ নেই। যেমন আরবী ভাষা থেকে পাওয়া ‘বিদায়’ শব্দটি। বিদায় -এর মত এমন অপরিহার্য শব্দ বাংলায় ছিলো না। প্রাচীন বাংলায় যা ছিলো তা হলো ‘ মেলানি ’। দেহ মেলানি অর্থাৎ বিদায় দাও বলে প্রচীন কাব্যে উলে­খ হয়েছে। বিদায় শব্দটি পাওয়ার পর বাংলা ভাষা অনেক আগে মেলানি-কে ত্যাগ করে এসেছে। এখন বিদায় অর্থে মেলানি-কে কেউ আর মেনে নিতে রাজি হবেন না। ‘বগল’ কথাটা নিয়েও ঐ একই ব্যাপার। ‘কাঁকতলি’ কখাটা থাকা সত্বেও বাংলা ভাষা ‘বগল’ শব্দকে এমন অবাধ ছাড় পত্র দিয়েছে কেন ?আবার আরবী ‘হয়রান’শব্দটা বাংলাতে আধিপত্য বিস্তার করে ভাব ও অর্থের এমন বিস্তৃত পরিমন্ডল সৃষ্টি করেছে যে ,বাংলা প্রতিশব্দ ক্লান্ত শ্রান্ত প্রভৃতি শব্দ দিয়ে তার সম্পূর্ন পরিপূরন করা সম্ভব হয়না ।

তবুও সময় সময় শব্দের জাত বিচিার নিয়ে কাদা ছোঁড়া ছুঁড়ি কম হয়না। পরবর্তীতে এ সব অপকর্ম নিস্ফল হয়ে যায়। জল আর পানি এ প্রসংগে উলে­খের দাবি রাখে। শব্দ দুটোর এক বস্তুবাচক অর্থ হলেও এতে অনেকে হিন্দুয়ানি আর মুছলমানি গন্ধ খুঁজে পান। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো শব্দ দুটোর উৎপত্তি স্থল একই। আবার কোথাও একই স্থানে হিন্দু মুছলমান নির্বিশেষে পানি বা জল ব্যবহার করেন।
  এ প্রসংগে ধর্মচর্চায় ভাষার আর ভাষাচর্চায় ধর্মের প্রভাব সম্পর্কে কিছু কথা এসে যায়। পৃথিবীর সব দেশেই প্রায় সব ধর্মাবলম্বী লোক রয়েছে। অথচ ধর্মগ্রন্থ যে কোন একটি ভাষাতে লিপিবদ্ধ হয়েছে এবং তার বহুবিধ ব্যাখ্যা বা তাফছিরও সে ভাষাতে কম বেশি লেখা হয়েছে। যেমন কোন ধর্মগ্রন্থ ও তার ব্যাখ্যা হিব্র“তে , কোন ধর্মগ্রন্থ ও তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষন সংস্কৃতে আবার কোন ধর্মগ্রন্থ ও তার ব্যাখ্যা ও তাফছির আরবীতে লিপিবদ্ধ হয়েছে। একটি দেশের সব ধর্মের লোকেরাই স্ব স্ব ধর্মের কথা মাতৃভাষাতে লিখতে বা বলতে চান। আবার দেখা যায় সবার মাতৃভাষা একটি । যেমন বাংলাদেশে হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান মুছলমান প্রায় সবাই আরবীর পাশাপাশি মাতৃভাষা বাংলাতে ধর্মচর্চা করেন। ভারতীয় হিন্দুদের একাধিক মাতৃভাষা রয়েছে। তারা তাদের নিজ নিজ মাতৃভাষাতে ধর্মচর্চা করেন। এমতাবস্থায় প্রত্যেকের মাতৃভাষাতে ধর্মীয় পরিভাষাসহ অনেক বিদেশী শব্দ প্রবেশ করেছে।বাংলা ভাষাতেও ধর্মীয় পরিভাষাসহ অনেক প্রাচীন ও বিদেশী ভাষা প্রবেশ করেছে এবং রীতিমত এ দেশীয় ভাষা হয়ে গেছে। যেমন  যিশু ,বৌদ্ধ , ঈশ্বর , ব্রহ্ম ,আল­াহ , রাছুল নাবী , ত্রপিটক ,কোরআন ,বাইবেল ,বেদ ,সংহীতা প্রভৃতি এ ধরনের শব্দ।ফিরিস্তি বানালে আরো এ ধরনের অসংখ্য শব্দ বেরিয়ে আসবে।

তাছাড়া প্রত্যেক ধর্মের মানুষের তাদের নিজ ধর্মগ্রন্থের ভাষার প্রতি একটা শ্রদ্ধাবোধ মানসিক দুর্বলতা থাকে। এটা দোষের নয়। দোষের হয় তখনই যখন ধর্মগ্রন্থের ভাষার কাছে নিজের মাতৃভাষাকে  
অত্যন্ত হেয় ভাবা হয় অথবা নিজ ভাষাকে ঘৃনা করা হয়। আসলে ব্যাপারটা নিয়ে কোন বিরোধ ঘৃনা বা 
বিরূপ মনোভাব থাকার কথা নয়।কারন কোন ধর্মগ্রন্থই অন্য ভাষাকে ঘৃনা করতে বা নীচ ভাবতে বলেনি।
 তাই এ কথা বলা যুক্তিযুক্ত এবং প্রয়োজন যে , কোন ধর্মীয় ভাষা কারো মাতৃভাষাকে নাকচ করে দিতে পারে না। এ কথা মেনে নিয়ে এ মনোভাব গ্রহন করতে অসুবিধা নেই যে ধর্মীয় ভাষা মাতৃভাষাকে সম্বৃদ্ধ করে।

রাজনীতি যেমন একটা দেশের জন্য অপরিহার্য তেমনি তা জনজীবনে প্রভাবশালী। তাই ভাষা চর্চার ক্ষেত্রে সময় বিশেষে রাজনীতি তদারকি ও গার্জেনগিরি ফলাবার সুযোগ পায়। যুগে যুগে বিদেশী শাসকরা অধীনস্থ দেশীয় ভাষার উপর এ ধরনের তদারকি আর প্রভুত্ব করার বাহাদুরি দেখিয়েছে।
রাষ্ট্রভাষা যখন যে ভাষা থাকে সে দেশে (উপনিবেশ হলেও ) সে ভাষা সর্বসাধারনের অনুসরনীয় ও শিক্ষনীয় হয়ে ওঠে। চাকুরি বাকুরি ব্যবসা বানিজ্য এবং মান সম্মান আর আভিজাত্য পদমর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে এ প্রচেষ্টা অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে মনে হয়। প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে এ প্রচেষ্টায় ভাটা পড়ে
রীতিমত। পরবর্তীতে আবার নতুন করে নতুন বাষ্ট্রভাষার অনুসরন ও অনুশীলন শুরু হয়। মোঘল পাঠান ইংরেজ আর খান আমলে পাক বঙ্গ ভারতে এ ধরনের রাষ্ট্রিয় ভাষা পরিবর্তনের ধারায় আরবী ফারসী উর্দু
ইংরেজী ভাসা চর্চার জোর অনুক’ল স্রোত বহানো হয়েছিলো। 
এ কথা তো সত্য , দেশীয় ভাষাকে উপেক্ষা করে  শাসকরা যখন ইচ্ছামত তাদের নিজ পছন্দের 
ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করে তাদের শাসিত কোন দেশে চাপিয়ে দেয় ,তখন তারা বস্তুত সে দেশের সত্ত¡াকে অস্বীকার করে। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এটা অবশ্য প্রয়েজনীয় এবং কৌশলগত দিক। এতে একটা ব্যাপার স্পস্ট হয়ে ওঠে তা হলো Ñ বিদেশী শাসকরা যেমন শাসিত শোষিত দেশের ত্রানকর্তা রক্ষাকারী মালিক বলে নিজেেক ভাবে ,তেমনি ভাষার ক্ষেত্রেও এমন একটা মনোভাব ব্যক্ত করে যে তারা প্রজাকুলের মুখের ভাষারও মালিক। তাই যে কোন আইন করে তা প্রতিষ্ঠিত করার স্পর্ধা দেখায়। কার্যত তা অত্যাচার আর নিপীড়ন হয়ে দেখা দেয়।তাদের শাসন কালের সমাপ্তিতে সে অত্যাচার ও নিপীড়নের অবসান ঘটে।তবে 
কিছু সংখ্যক মোছাহেব বা ক্রীত অনুরক্ত থেকে যায় , যারা দীর্ঘদিন গত প্রভুদের মন মেজাজ অভিরুচি ও 
চলন বলন রফ্ত করে তা নিজেদের জীবনে বা সমাজ জীবনে বজায় রাখার আপ্রান চেষ্টা চালায়।তাইতো ইংরেজী উর্দূর কবল মুক্ত হয়েও বাংলা ভাষা তাদের কাছে সত্যিকার মর্যাদা পাচ্ছে না। কারনে অকারনে বিদশী বুলি আওড়িয়ে তাকে অপমানিত করে চলেছে। 

দেশী শাসকগনও অতিদর্পে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভাষা চর্চায় ও শিল্প সাহিত্যে অংশ গ্রহনের মাঝ 
দিয়ে ভাষার উৎকর্ষ অপকর্ষের মালিক সাজার চেষ্টা করেন। যোগ্যতা ছাড়াই ভাষা সম্পর্কে এমন সব উক্তিসহ  এমন কিছু কার্যক্রম গ্রহন করেন যা নিসন্দেহে জোর করে অবিভাবকত্ব ফলানোর সামিল। তবে

ভাষা চেতনা এবং আমাদের বিশ্বাসঘাতকতা

একটি মানুষ তথা একটি জাতির অস্তিত্বের জন্য যে কয়েকটি জিনিস অপরিহার্য তার মধ্যে ভাষা  প্রধান অন্যতম। অস্তিত্বের যে কোন খুঁটিকে দুর্বল করে বা ধ্বংস করে একটি জাতিকে ধ্বংস করা ও গোলাম বানানো যায়। পক্ষান্তরে অস্তিত্বের আক্রান্ত খুঁটিটাকে কেন্দ্র করে একটি মানুষ বা একটি জাতির স্বাধীন সত্ত¡ার চেতনা উজ্জীবিত হতে পারে।এমন কি সে চেতনা জাতীয় বিপ্লব থেকে মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয়।
তবে এ কথা সত্য যে অস্তিত্বের অন্যান্য খুঁটি গুলো গৌন বা অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে না। 

বাংলা দেশেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। অন্য দেশে যেখানে  বিশ্বাস বা ধর্ম বা ভূমিকে কেন্দ্র করে বিপ্লব ঘটেছিলো সেখানে বাংলাদেশে ভাষা চেতনা থেকে গনজাগরন , তা থেকে স্বাধীকার আন্দোলন , অত:পর মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিলো। 

বহিরাগত কোন শাসক , ধর্মপ্রচারক এবং যে কোন লক্ষ্যে আগত বিদেশীরা প্রথমে যে সমস্যার সম্মুখিন হয় তা হলো দেশের ভাষা। সে কারনে সে ভাষার সাথে প্রয়োজনের খাতিরে পরিচিত হতে হয়।
পরিচিতির প্রয়োজনটা তারা দুভাবে মেটায়। এক ,তারা নিজেরা সে দেশের ভাষা শিক্ষা করে , দুই , দেশীয় পন্ডিত বা শিক্ষিত ব্যক্তিকে কিনে নিয়ে। এতে অবশ্য মনে করার কোন কারন নেই যে , তারা দশটির ভাষা ,সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নতি বা সুসংস্কার সধন করে। শ্রীরাম পুরের পাদ্রীদের মিশন বা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ সম্পর্কে এ রকম একটা ভ্রান্ত ধারনা প্রচলিত আছে।
এটা অত্যন্ত সত্য যে ,কোন লোক বা গোষ্ঠি পরিকল্পনা করে সচল ও সজীব ভাষা তৈরি বা সৃষ্টি করে দিতে পারে না। কৃত্রিম ভাষা সৃষ্টির যত প্রচেষ্টাই হোক না কেন , ভাষা সব সময় কৃৃত্রিমতা পরিহার করেছে। প্রতিটি ভাষার বহমান একটা গতি আছে। তার জন্মের ব্যাপারটাও প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক। সময় বিশেষে ব্যক্তি বা গোষ্ঠি তাতে গতি বাড়াতে সাহার্য করতে পারে মাত্র।

বিদেশী শাসকরা যে কারনে একটি শাসিত দেশের ভাষা শেখে ,ঠিক সে কারনেই তারা সে দেশের ভাষার সুসংহত বিকাশ আর স্বচেতনা সম্বৃদ্ধির পথ রুদ্ধ করার পথ তৈরি করে। কারনটা হলোÑ তাদের প্রশাসনে যেন বিঘœ উপস্থিত না হয়। তাই ভাষাকে নিয়ন্ত্রন করার সুচতুর অপচেষ্টা যুগে যুগে ইতিহাস হয়ে আছে। দেশ পরাধীন হলে ভাষাও পরাধীন হয়ে যায়।

সুচতুর অপচেষ্টা শুরু হয় দেশীয় সুবিধাবাদী শিক্ষিতদের দ্বারা। সুকৌশলে তাদরে দিয়ে সাহিত্যে দর্শনে শিল্পে সংগীতে ইতিহাসে ্ক কথায় জীবনের সর্বক্ষেত্রেতাদের মনোভাব াার মতবাদের অনুপ্রবেশ ঘটায়।অল্প শিক্ষিত আর অিিক্ষত একটা জাতির জন্য এর চেয়ে বড় আক্রমন ষড়যন্ত্র আর নিপীড়ন কিছু হতে পারে না।

১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে প্রদেশগুলোর স্বায়ত্ব শাসনের যে অংগিকার লিপিবদ্ধ ছিলো , তাকে অস্বীকার  করে  তৎকালীর পূর্ব পাকিস্তানে উর্দূকে রাষ্ট্র ভাষা করার প্রকাশ্য যে অপচেষ্টা শুরু হয়েছিলো তা ছিলো এ দেশের জনগনের অস্তিত্বের উপর সকচেয়ে জঘন্য আগ্রাসন। এ কথা অস্বীকার করার তো আর উপায় নেই যে ,এ দু:সাহস বা ষড়যন্ত্রের মদদ দিয়েছে এ দেশীয় শিক্ষিত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।
এ প্রসংগে আমাদের দুর্বলতা ও দোষের কথা অকপটে স্বীকার করতে হবে। আর দশটা বদগুনের মত আমাদের ধামাধরা তোষন নীতির  কথা বরতে হবে। ক্রোদ ও বিরুক্তির কারন যতই হউক ,ইতিহাস তো ক্ষমা করবে না। যুগে যুগে আমাদের ভিক্ষা চাওয়ার  প্রসারিত হাত তার সত্যতা স্বীকার করছে। 

দেশী বিদেশী অত্যাচারী বা হিতৈষী সব শাসককেই তো আমরা বেশির ভাগ শিক্ষিতরা আগু বাড়িয়ে স্বাগতম জানিয়েছি। দেশের আপামর  সাধারন মানুষেরা তাকে অনুসরন করেছে মাত্র। নান্দি পাঠের স্তুতি প্রনয়ন করে কলংকিত হয়ে আছি আমরা।এতে হয়ত ব্যক্তিগত বা বিশেষ সমষ্ঠিগত অনেক ফায়দা এসেছে , কিন্তু জাতীয় স্বার্থে শুধু শূন্য জমেছে।দুচারজন প্রতিবাদী শিক্ষিতরা কোনঠাসা আর অপাংতেয় হয়ে থেকেছে। 
লোভ যেমন ব্যক্তি তথা জাতিকে দাসত্বে নিয়ে যায় ,তেমনি ভিক্ষাও তাকে চাটুকর হতে শেখায়।
প্রতিবাদী হওয়ার চালিকা শক্তি ভিক্ষা কখনোই হতে পারে না। পরিশ্রম না করে ভোগ করার যে সেুখ তাতো ভিক্ষুক হতে প্রলুব্ধ করবেই।আর ভিক্ষা পাওয়ার জন্যই শাসকের কাছে আমাদের এই চাটুকারিতা
তাই বলছিলাম ,আমাদের ভাষা ও জাতীয় সত্ত¡ার প্রতি আক্রমন আর নিপীড়নের দায়দায়িত্ব পরদেশী শাসকদের কৃতকর্মের উপর চাপিয়ে ইতিহাস লিখলে বা সভা জনসভায় একুশের অনুষ্ঠান করলে জাতীয় চেতনার পূর্ন বিকাশ ঘটবে না।কারন উক্ত অপকর্মের ভাগী আমরাও যে ছিলাম এবং এখনো আছি তা স্বীকার করে নিতে হবে। জীবন জীবিকার দোহাই পেড়ে আমরা যারা এড়িয়ে যেতে চাই , তাদরেকেও চিহ্নিত করতে হবে। 
অসংথ্য সাধারন মানুষের  মানসিকতা সৃষ্টিতে যাদের প্রভাব স্বীকৃত মানসিকতা বিশ্লেষন ও পরিবর্তিত করতে হবে। ভাষা সংক্রান্ত মানসিকতা সৃষ্টিতে ধর্ম রাজনীতি অঞ্চলপ্রীতি ব্যবসা বানিজ্য প্রভৃতি বিষয়ক চেতনা কাজ করে।
ধর্মীয় বোধ ভাষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরি। কারন  ধর্ম গ্রন্থের ভাষার কাছে আর সব ভাষাকে গৌন বা নিকৃষ্ট ভাবার এক উৎকট প্রেরনা করেন ধর্মগুরুরা। বাংলাদেশে বিশেষ করে কোরআনের ভাষা 
আরবী হওয়াতে তার মর্যাদা সর্বাগ্রে। সেজন্য আরবীর প্রধম পাঠ একটা কায়দা বইকেও কোরআনের মত সম্মান দেয়া হয়। আরবী ভাষা শিক্ষাকে সাধারন মানুষের কাছে অবশ্য পাঠ্য করা হয়েছে। ধর্মগ্রন্থ কোরাান শেখার ও পড়ার জন্য আরবী শিক্ষার প্রয়োজন আছে। তাই বলে আরবী ভাষার পাশে অন্য ভাষাকে অপাংতেয় বা নিকৃষ্ট হতে পারে না। সাধারনভাবে প্রতিটি আরবী হরফ সবার চেয়ে পবিত্র এমন কথা ভাবার কোন কারন থাকতে পারে না। আর সেজন্যই আরবী হরফে লেখা উর্দূ ফারসি ভাষা বাংলার কাছে বেশি মূল্যবান হতে পারে না।
  কোরআন মজিদের ভাষা  আরবী বলে এ ভাষার প্রতি মুছলমানদের একটা স্বাতন্ত্র শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে । ইছলাম ধর্ম চর্চাতে আরবী ভাষার প্রয়োজন আছে। তাই বলে আরবী ভাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা হোক এটা কেউ চাইবেন না । আল কোরআনের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব আরবী ভাষাতে নয়। আরবী ভাষাতেও লোকে গালিগালাজ করে অশ্লীল কথা বলে অনেক অনৈছলামিক বিনোদন ও সিনেমা রম্য পত্রিকাপ্রকাশিত হয়। আরবী ভাষা ছাড়া অন্য ভাষাতে আল­াহকে ডাকলে শুনবেন না এমন কোন দলিল কোথাও নেই।
সংষ্কার বোধে তড়িত হয়ে যেমন কিছু হিন্দু ব্যবহারিক ক্ষেত্রে পানি উচ্চারন করেন না তেমনি কিছু মুছলমান দৈনন্দিনসংলাপে জল উচ্চারন করেন না। অথচ শব্দদুটোর উৎপত্তিস্থল একই জায়গায়। এ কথা তো সত্য যে ,বহু খৃষ্টান আরবী ভাষায় কথা বলেন। তেমনি বাংলা ভাষা হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান মুছলমান দের মুখের ভাষা। অথচ রাজনৈতিক কারনে সুচতুর শাসকরা বাংলাকে হিন্দুদের ভাষা চিহ্নিত করার চেষ্টা
অপচেষ্টা চালিয়েছিলো। আবার মুছলমানদের মুখের ভাষাকে বাংলা বলতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন অনেক হিন্দু পন্ডিত। আরো একটা উৎকট মানসিকতা কাজ করেছে  তাহলোÑখাঁটি মুছলমানিত্বের সাথে বাংলা ভাষা চর্চার বিরোধ আছে।
বাংলাদেশে বহু  বিদেশী শাসক রাজত্ব করেছে , বনিক বানিজ্য করেছে। তাদের সুবিধা মত তারা তাদের দেশীয় ভাষাকে এ দেশের রাষ্ট্রভাষা করেছিলো। সে কারনে প্রচুর বিদেশী শব্দ বাংলায় ঢুকে পড়েছে। অনেকের কাছে এটাও অসহনীয় ব্যাপার। তাদের একটা ভ্রান্ত ধারনা রয়েছে যে সংষ্কৃতভাষা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। আসলে বাংলা ভাষাতে বিদেশী শব্দ আসাতে কারো জাত যায়নি , বরং শক্তি বেড়েছে। আর বাংলা ভাষা বাংলা থেকে গেছে। ফারসি আরবী ইংরেজী হয়ে যায়নি। বিদেশ  প্রেম আমাদের বরাবরই কিছুটা অধিক। তারই আতিশর্যে আমরা বাংলা ভাষাকে রোমান আরবী ইংরেজী হরফে লেখার মত ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছি।এ করে রাজনীতিক বানিজ্যিক ফায়দা লুটার চেষ্টায় সফল হতে চেয়েছি।
জীবনের সর্ব স্তরে  বাংলা ভাষার ব্যবহার শুরু করলে মুছলমান খৃষ্টান হিন্দু বৌদ্ধ থাকতে অসুবিধা নেই। তেমনি আবার বুদ্ধিজীবি বিজ্ঞানী চিকিৎসক রাজনীতিক ব্যবসায়ী হতে বাধা নেই। ধর্মবিশ্বাস ও অন্যান্য প্রয়োজনের ক্ষেত্রেও ভাষা বাধা হতে পারে না।
পলাশীর যুদ্ধে সুবে বাংলার জয় পরাজয় শুধু সিরাজের জন্য ছিলো না ,তেমনি বিশ্বাসঘাতকতার দায়দায়িত্ব শুধু মাত্র মিরজাফরেরও ছিলো না। দেশ তো সালাম বরকত আর নুরুল নাজিমের একার নয়। ভালমন্দের দায়দায়িত্ব দুদলের উপর চাপিয়ে ইতিহাস তর্পন করে নিজেদের বীর ভাবলে চলবেনা। কোন 
শাসকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম মানে তার মাতৃভাষার বিরুদ্ধে নয়। পৃথিবীর সব ভাষাই কোন না কোন জাতির মাতৃভাষা ও রাষ্ট্রভাষা। তাই আরবী ফারসী উর্দু ইংরেজী প্রভৃতি ভাষার প্রতি বিষুদ্গার করলে আমাদের মাতৃভাষা তথা রাষ্ট্রভাষা বাংলা পরিশুদ্ধ সম্বৃদ্ধ আর সর্বত্রগামী হয়ে উঠলো এমন ভাবা বাতুলতা মাত্র। আর বাংলার নিত্য নতুন শব্দ সম্ভার সৃষ্টি করে আঞ্চলিক ভাষার প্রচুর প্রভাব ফেললেই আমাদের ভাষা ও জাতীয় সত্ত¡া স্বাধীন হয়ে উঠবে Ñ এ কথা ভাবারও কোন অবকাশ নেই।
তাই আজ জীবনের সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যপক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের ভাষা চেতনা যেমন ক্রমান্বয়ে মুক্তিযুদ্ধে সঞ্চারিত ও সঞ্চালিত হয়েছিলো , তেমনি মাতৃভাষার গুরুত্ব জীবনের গভীরে উপলব্ধি করে আমাদের জাতীয় জীবনের অগ্রগতির সোপান তৈরি করতে হবে। আমাদের সকল চেতনা  বিশ্বাস অনুভবও তার উচ্চারন যখন আপন জীবনবোধের শক্ত ভীতে দাঁড় করানো সম্ভব হবে তখনই মাতৃভাষা বাংলার যথার্থ মর্যাদা রক্ষা পাবে। 
এ কথা একান্তভাবে ভাবতে হবে Ñসিরাজ মরে গেলেও মিরজাফর তার পরবর্তী নবাব।মীরমদন মোহনলাল আর্ত্ম উৎসর্গ করলেও বিদেশী তাবেদার দালাল বিশ্বাসঘাতকদের আত্মা আজো আমাদের উপর ভর করে আছে। লাখো শহীদের রক্ত আর মা বোনের রক্তের দোহাই পেড়ে নিজকে লুকালে চলবে না। হয় নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিজেই ধরা দিতে হবে , না হয় যথার্থ বীরের মত সত্যের পক্ষে প্রতিবাদী হয়ে উঠতে হবে। যেখানে নরম কথার উপদেশ অনুরোধ কোন কাজে আসবে না সেখানে যুদ্ধ ঘোষনা ছাড়া উপায় কি। বিশ্বাসঘাতকতা আর তাবেদারীর বিরুদ্ধে এ ছাড়া অন্য পথ নেই।
৫২’ এর পূর্ববর্তী বা পরবর্তী ইতিহাস পর্যালোচনা করলে যে চেহারা ধরা পড়বে তাহলো আমরা 
 বিশ্বাস ঘাতক। কারন একুশ এলে আমরা যারা ফুলের তোড়া একুশের গান সভাসমিতি আলোচনা সভা 
 আর লেখালেখি নিয়ে অস্থির হয়ে উঠি , তারাই ঘরদোরে আসবাবপত্রে আচার আচরনে পুরো দস্তুর বিদেশী।যারা অ  আ বর্নমালার জন্য অঝোরে শোকাশ্র“ বর্ষন করি , তারাই সন্তানদের ইংরেজী অধ্যুষিত স্কুলে বা অনুরূপ বিদ্যায়তনে ভর্তি করাতে পারলে জীবন সার্থক মনে করি। দুস্থ এতিম হতভাগ্য শিশু ও মাতার কথা বলে আমরা যারা নেতা হই ,ক্ষমতা দখল করি তারাই সন্তানদেরকে বিদেশে পড়াই ; আমরা যারা শোক দিবস একুশ এলে অপিস আদালতে কালো পতাকা তুলি , শোকসভা করি , তারা আজো বাংলায় চিঠিপত্র দলিলদস্তাবেজ লিখতে লজ্জাবোধ করি অথবা লিখতে পারি না।আমরা যারা বাংলা ভাষাভাষী তারাই নিজেদের সাথে  নিজ দেশে অনর্থক অন্য ভাষায় কথা বলে গর্বিত হই ; আমরা যারা প্রভাত ফেরিতে নগ্ন পদে সপরিবারে বা একাকি অংশ নেই  ,তারাই ফিরে এসে ঘরে বসে বিদেশী গানের ডিক্স বাজাই  ,সম্পূর্ন বিদেশী পানিতে অভ্যস্ত হয়ে বিদেশী কায়দায় জীবন গড়ে তুলি , যারা বাইরে এক আর ভেতরে আরেক তারাইতো  বিশ্বাস ঘাতক।
ভাষা আন্দোলন আর একুশের চেতনার কথা বলে , বাংলা ভাষা সৈনিকের দোহাই দিয়ে বাংগালি    য়ানার গৌরব করে আমরা রাজনীতিতে মাঠ গরম করেছি , ব্যক্তিগত বা দলগত ফায়দা লুটেছি তারা কি ব্যক্তিগত  সামাজিক ও রাস্ট্রিয় জীবনে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করার রাজনীতি করেছি ?এ কথা তো সত্য আমাদের ছাত্র ছাত্রী আর শিক্ষক কতজন শুদ্ধ বাংলাতে কিছু লিখতে পারে , নিসন্দেহে ভাবনার বিষয়।
আর্থিক সমাজিক নৈতিক রাষ্ট্রিয় উন্নয়ন উৎকর্ষ সাধন করতে গেলে একটি জাতি বা দেশকে অন্য দেশ বা জাতির সাথে সম্পক তৈরি করতে হয়। সে কারনে তাদের ভাষা শেখার হয়ত প্রয়োজন থাকতে পারে। ত্ াবলে নিজের ভাষাকে অবহেলা করে  নয়। ইংলিশ বা অনুরূপ কোন স্কুলে ইংরেজী শেখার জন্য
ব্যবস্থা নেয়া হয়। নিজের ভাষাতে পারদর্শী হলে একটি মানুষের বিদেশী ভাষাতেও পারদর্শী হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।কারন নিজের ভাষাতে নিজেকে প্রকাশ করার ক্ষমতা যে অর্জন করে  অন্য ভাষাতে 
 সে নিজকে সঠিক ভাবে প্রকাশ করতে পারে। আমরা যখন শিশুকে পরদেশী ভাষা গেরাবার প্রানান্তকর প্রচেষ্টা চালাই তখন তা শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রতারনা ও নিজেদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হয়ে যায়। 

----------------  

                   
November 03, 2019

মুক্তিযুদ্ধে ভুতের লড়াই (গল্প)

 “মুক্তিযুদ্ধে ভুতের লড়াই”

-মনসুর উর-রহমান-
 বেশ কিছু দিন আগের কথা ।
বাবা আমাকে ডেকে বললেন : মনি, তোর পরীক্ষা তো শেষ। পারলে যা না তোর দাদু ভাইকে দেখে আয়।অনেক দিন আমিও যেতে পারিনাতোর মায়ের শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না। যাবি ?
তৎক্ষনাৎ উত্তর দিলাম ঃযাবো ।
ঠিক আছে ।যাওয়ার ব্যবস্থা কর ।কাল সকালের ট্রেনে যেতে হবে।  তা হলে দিনে দিনে পৌঁছতে পারবি। দূরের রাস্তা।বলে বাবা বেরিয়ে গেলেন ।
এবার  ভাবতে বসলাম। বাবাকে তো বলে দিলাম Ñ যাবো।যাওয়ার ব্যাপারটা ভাবতেই মনটা কেন জানি দমে গেলো।
সেই কবে বাবার সাথে স্কুলে থাকতে দাদু ভাইয়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম। দূরের পথ ।ট্রেন থেকে নেমে গরুর গাড়িতে করে  কিছু পথ।  তারপর হেঁটে বেশ খানিক দূর ।তারপর একটা ছোট নদি ।এককালে নাকি বড়ো সড়ো ছিলো নদিটা নদি পার হয়্ েএকটা মাঝারি গোছের জংগলের পাশ  ঘেঁষে মোঠো পথে কিছু দূর গিয়ো  একটা আম কাঁঠালের বাগান।তার ভেতরে পশ্চিম পাশে দাদু ভাইয়ের বাড়ি ।
দাদু বাই বছর  পাঁেচক হলো মারা গেছেন দাদি ভাই বেঁচে আছে  ।অনেক বয়স হয়েছে তার।আমরা সে দাদিকেও দাদু ভাই বলে ডাকি । ছোট থেকে সে দাদি আমাদেরকেও দাদু ভাই বলতো।আমর াও শুনে শুনে তাকে দাদু ভাই বলতাম।সে দাদু ভাই আমার বাবার নিজের মা নয়।তার নিজ ফুফ  ।আমার  নিজ দাদার  আপন বোন ।াবয়ে হয়েছিলো দূরে। বাবার  সে ফুফা মানে আমার দাদু ভাই ছিলেন মস্ত বড়  আলেম। সে তল­াটে তার অনেক নাম ধাম হাঁক ডাক ছিলো । বাবার বংশে নিজের বলতে এখন একমাত্র  ঐ দাদি মানে দাদু ভাই বেঁচে আছেন ।
                                                                                                       ু
         রাতে খাবার পর বাবা আমাকে ডেকে বললেনঃ তোর চিন্তার কোন কারন নেই। এখন রাস্তা ঘাট সব পাকা  ।
ট্রেন থেকে নেমে বাসস্টান্ড।বাসে চড়ে একেবারে তোর দাদু ভাই এর বাড়ির কাছাকাছি যাবি।সামান্য একটু রাস্তা হাঁটতে হবে বাইরের কিছু খাবি না।দেখেশুনে যাস্ । রাতে বাইরে ঘুরবি না ।  জায়গাটা  রাতের বেল
ায় তত সুবিধের                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                         না ।
          বাবা-মার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে দাদুর বাড়ি যাওয়ার পথে সকাল সকাল রওয়ানা দিলাম।ট্রেন থেকে নেমে বাস ধরে যখন দাদুর  বাড়ির কাছাকাছি এসে নামলাম তখন বিকেল প্রায় শেষ । সেই মস্ত বাগান বাড়ির ভেতর দিয়ে হেঁটে হেঁটে দাদু-বাড়ির সামনেএসে দাঁড়ালাম ।
চার পাশে চোখ ফেললাম। দেখলাম সবকিছুর যেন কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে।বাগানের গাছগুলো ডালপালা মেলে  আগ্রহ
                                                     নিয়ে  তাকিয়ে আছে । ছোট গাছগুলো এখন মস্ত  বড় বড় গাছে পরিনত হয়েছে । গাছে গাছে নানান পাখির ঝাঁক কলরব তুলে সন্ধার  আগমনি গান  শুরু করেছে  ।

দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক মাঝারি বয়সের  মহিলা আমাকে দেখে এগিয়ে এলো। এলোমেলো চুল  আর অগোছালো
কাপড় দেখে বুঝলাম দাদুভাইএর বাড়ির কাজের লোক । আমার মুখের দিকে একটু তাকিয়ে থেকে বললো ঃ  দাদুভাই !
তারপর দ্রুত বাড়ির ভেতরে চলে গেলো ।একটু পরে দাদুভাইকে সাতে করে দরজায় এসে হাজির হলো \ আমাকে দেখে দাদুভাই যেন আকাশের  চাঁদ  পেলো ্দুহাতে আমাকে জড়িয়ে ধরে  তার কি উস্লাস ! 

                     বয়স হয়েছে দাদুভাইএর  আগে যেমন দেখেছিলাম তারচেয়ে অনেকটা  বুড়িয়ে গেছে দাদু  ভাই ।  ্
মাথার চুল সব সাদা ।মুখে দাঁত অবশিষ্ট নেই ।গায়ের চামড়ায়  কেমন  চুড়চুড়ে চিড় ধরেছে আর ঢিল হয়ে গেছে তার বাধন ফরসা রং কিছুটা কালচে হয়েছে \
                      নাস্তার আয়োজন দেখে বুঝলাম- দাদুভাই আগে থেকেই  আমার আসার খবর জানতো । হয়ত বাবা সংবাদ পাঠিয়েছে । দাদু ভাই জানালোÑবাড়ির সবকিছু, কলা এ দুধ. সরু চালের পায়েষ,পিঠে সব। ক্ষিদে পেয়েছিলো।গপাগপ সব সাবাড় করে ফেললাম ।দাদুভাইএর ফোকলা মুখের হাসি দেখে বুঝলামতার খুশির পরিমান ।
সন্ধা প্রায় হয়ে এসেছে বাড়ির বাইরে এসে দাঁড়ালাম ।সন্ধার া একটা কালো চাদরযেন ক্রমান্বয়ে বিছানো হচ্ছে চার দিকের গাছ পালায় আর মাঠ প্রান্তরে  ।দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলামÑকেমন যেন একটা ভুতড়ে নীরবতা পরিবেশটাকেছেয়ে যাচেছ ।এর আগে যখন এসেছিলাম তখন দেখেছি সন্ধার সময় গ্রামবাসির চলাচল।মাঠ থেকে গরু ছাগল নিয়ে ফেরার ব্যস্ততা। নানান কাজের  হাঁকাহাঁকি  আর ডাকাডাকি। একটা নির্জন দ্বিপের মত মনে হতে লাগলো দাদুভাই এর এ গ্রামটা।  গাছে গাছে পখপখালির চেঁচামেচি  আর কিচিরমিচির আর নেই ।বাবার কথাটাÑ”সন্ধার পর বাইরে ঘোরাঘুরি করবি না” মনে হতেই গা-টা ছমছম করে উঠলো । বাইরে থাকতেই দাদু ভাই এর ডাক শুনতে পেলাম--দাদুভাই, ভেতরে এসো ।
                   রাতে খেতে বসে দাদুভাই অনেক গল্প শোনালো । তার জীবনেরঅনেক ঘটনা কথা কাহিনী । এক ফাঁকে প্রশ্ন করলামÑদাদুভাই,গ্রামটা তো  এমন ছিলো না ।সবসময় লোকজনের চলাচল আর বাচ্ছাদের কোলাহল গ্রামটাকে মাতিয়ে রাখতো  এর আগে এসে আমিই তো  এ সব দেখেছি । এমন হলো কেন ?
দাদুভাই হঠাৎ করে থেমে গেলো। কেমন যেন চিন্তিত বলে মনে হলো তাকে ।আমার দিকে বেশ কিছুক্ষন মনোযোগ
 দিয়ে  তাকিয়ে থাকলো। আবার প্রশ্ন কতরলাম Ñ কি ভাবছো অমন করে ?
                       সজাগ হওয়ার চেষ্টা করলো দাদুভাই ।  কই ? কি আর ভাবছি ? তুই এসেছিলি সেই  কবে । তখন তোর বয়স কত কম ছিলো ।এখন বড় হয়েছিস ।সবকিছু কি আর আগের মত মনে হবে ?
তা ঠিক । কিন্তু এ পাড়ার এত লোকজন গেলো কোথায় ?
 ফোকলা মুখে এক রহস্য মাখা হাসি  ফুটে উঠলো ।আমার  ম ুখের দিকে চেয়ে বলে উঠলো ঃ ভয় পাবি না তো ?
                       কেন ভয় পাবো ? আমি ভয় পাই না ।
                        সাবাস ! ্এই না হলে আমার দাদুভাই। তা হলে শোনোঃ  এ তল­াট এখন ভুতের দখলে । তের দাদ বেঁচে থাকতে ভুতদের উপদ্রুপ শুরু হয়। তাদের  অত্যাচারে  এ পাড়ার লোকজন আস্তে আস্তে ভিটেবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে । আমাদের উপরেও অত্যাচার কম হয়নি ।তোর দাদু আলেম মানুষ । অনেক দোয়াদরূুদ জানা ছিলো তার। তারই জোরে তাদের অত্যাচার বন্ধ করতে  পেরেছিলেন । এরপর ভুতেরা  এখন পড়শির মত বসবাস করছে । তবে তাদের সংখা অনেক বেড়েছে \ মজার ব্যাপার হলো এখন ওরা আমাদের  ভয় করে\ তোর  দাদু বেঁচে থাকতে এক এক সময় কয়েকজন ভুতকে পিটিয়েছিলো
                         সেকি ! ভুতকে তো দেখা যায় না ।  পেটালো কেমন করে ?
                         তোর দাদু জানতো কি করে ভুতকে ধরে পেটানো যায় । সেই থেকে ওরা আমাদের ভয় করে।
ভেতরে ভেতরে দুর্বল হয়ে পড়ছি ভয়ে।তাহলে সত্যি সত্যি আমি ভুতের রাজ্যে এসে পড়লাম।এ ভয়ের কথা তো দাদুভাইকে বলা যাবে না। জোর করে সাহস সন্চয় করে বসে বসেদাদুভাই এর কথা শুনতে লাগলাম ।ূ
                          তোর দাদু ভাই ছিলো এ তল­াটে একজন নাম করা লোক । যেমন তার এলম তেমনি তার বিদ্যা বুদ্ধি ।তোর দাদুর জানা ছিলো ভুত  জ্বিন বশ করার সব দোওয়া দরুদ আর তাবিজ তুম্বা । ভুতেরা কোন রকম দুষ্টামি আর বদমায়েশি করলে ওদের সরদার ভুতকে হাজির করে ধমক দিতো তোর দাদুভাই । ওতেই সব ভুত ঠান্ডা হয়ে যেতো। আর কখনো সাহস করতো না আমাদের কোন ক্ষতি করার ।
দাদু যে এখন নেই., ওরা অত্যাচার করে না ?
কখন কখন একটু আধটু করার চেষ্টা করে  কিন্তু পারেনা।আমার কাছে তোর দাদুর দেওয়া তাবিজ আর দোওয়া শেখানো আছে ।
দাদুভাই , আমাকে শেখাওনা !
শেখাবো শেখাবো । এখানে যদি থেকে যাস্ তবে তো শিখতেই হবে ।
হঠাৎ পাশে কোথাও কি যেন একটা ভেংগে পড়ার শব্দ হলো। আমি চমকে উঠলাম ।দাদুভাই তৎক্সনাৎ কি সব দো পড়ে আমার গায়ে ফুঁ দিয়ে দিলো , তার সাথে মুখের কিছু থু থু এসে পড়লো আমার  মুখে চোখে।
দাদুভাই তুমি ভয় পেলে ?
নাতো । কাঁপা গলায় বললামÑওটা কিসের শব্দ ?
ওটাই তো ওদের শব্দ ।কিছু খাবার চাইতে এসেছে ।ক্ষিধে পেলে এভাবেই ওরা খাবার চাইতে আসে ।কখন কখন ওরা নাঁকি গলায় গান ধরে  আর তিড়িং বিড়িং করে নাচে । দাদুভাই ,তুমি বসো ,আমি ওদের  কিছু খাবার দিয়েআসি ।
 দাদুভাই  উঠতেই আমি হাত ধরে থামিয়ে দিলাম ।না না দাদুভাই,আমি একলা এখানে থাকবো না । আমিও তোমার সাথে যাবো । দেখবো তুমি কেমন করে ওদের খাবার দাও  !
আরো ভয় পাও যদি ?
না পাবো না ।তুমি আছো না ?
তবে  এসো।
আমি দাদুভাএর পিছন পিছন গেলাম। দেখলাম দাদুভাই একটা ধামাতে রাখা  কিছু খই মুড়ি মুড়কি  লবন তেলে মেখেবাইরে নিয়ে চললো।বাড়ির পিছনে কিছু দূর গিয়ে একটা বড় তেঁতুল গাছের তলায় রেখে এলো । দাদুভাই চলে আসছে,আমি পেছন থেকে ফিরে ফিরে  তাকিয়ে দেখছি ।দেখি কি !খই মড়ি মুড়কির ধামাটি দীরে ধীরে  উপরে উঠে যাচ্ছে ।
আমি দাঁড়িয়ে  গিয়ে বললাম Ñও দাদুভাই , দেখো দেখো ধামাটা উপরে  উঠে যাচ্ছে ।
আগের রাতে আমি একটা ঘরে  একলাই ছিলাম ।কিন্তু এ রাতে সে ঘরে  একলা থাকার আর সাহস হলো না বললামÑওদাদুভাই ,আজ আমি রাতে তোমার  ঘরে থাকবো । ফোকলা মুখের দুষ্ট হাসিতে  দাদুভাই বলে উঠলো Ñওরে আমার বীর পালোয়ান  ! খুব নাকি সাহস তোর ।আমার  ঘরে দুটো খাটই তো রয়েছে ।
রাতে দাদুভাই যে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে  । একটা তন্দ্রা আমার দুচোখে কেবল নেমেছে।  হঠাৎ একটা কন্ঠস্বর শুনতে পেলাম। আস্তে আস্তে ডাকছেÑওরে মনি ,উঠে আয় ,আয়! আয়!
চমকে উঠলাম। চোখ খুলে চার দিক তাকালাম । দেখলামÑঘরে আলো জ্বলছে ।না,  কেউ নেই ।আমার ডাক নাম মনি ।দাদুভাই ছাড়া কেউ জানে না ।আর কেউ জানলো কি করে  ? তবে কি ভুতেরা আমার  নাম জেনে ফেলেছে ? কিছুটা ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে থেকে  ককন যে ঘুমিয়ে পড়েছি জানতে পারি নি ।
 দিনের বেলা দাদুভাইএর বাড়ির  বাইরে চারদিকে হেঁটে বেড়ালাম ।বহু দিন পর  এসেছি ্ । যেন সব কিছু বদলে গেছে । নতুন নতুন  মনে হ”্ছে ।তবে বাড়ি ঘরের সংখ্যা তেমন বাড়ে নি। অনেক পুরানো গাছ এখনো আছে। আম কাঠাল বট পাকুড় শিমুল শেওড়া আরো কত গাছ ! দাদুভাইকে জিঙ্গেস  করলাম Ñএত পুরানো আর বড় বড় গাছ আছে কি করে ?
দাদুভাই জানালো Ñ গাছ কাটা তো দূরের কথা , কোন  গাছের ডাল কাটলে ,সারারাত সব গাছের  ডালে ডালে ভুতের  চিৎকার  আর মিছিল শুরু হয় । চেঁচামেচি হৈ চৈ চলতে থাকে সমান  তালে । তার সাথে ঢিল ছোঁড়া গাছের ডালে শাপটানো  পাখিদের তাড়ানো  চলে সমানে ।ভয়ে কোন মানুষ আর ডাল কাটে না।তবে গাছ বা ডাল শুকিয়ে গেলে কোন বাধা নেই । শুকনো ওসব দিয়েই সারা বছর  জ্বালানী  আর খড়ির কাজ চলে । তোমার দাদৃুভাইও বলে গেছে গাছ না কাটার জন্য । ভুতেরা সপরিবারে বাস করে  ঐ গাছগুলোতে ।দাদুভাই একদিন হাঁটতে হাঁটতে আমাকে নিয়ে গেলো সেই ছোট নদীর  ধারে  ।পাড়ার পুব দিয়ে  নদীটা বয়ে গেছে । আগে নদী প্রবল থাকলেও এখন অনেকটা তার মরন দশা ।
নদীর পূর্ব পাড়ে দেখলাম সেই আগের দেখা ঘন জংগলটা ।আশে পাশে কোন বাড়িঘর নেই ।দাদুভাইকে জিঙ্গেস করলাম Ñদাদুভাইও ,জংগলটার নাম যে মনে নেই । দাদুভাই বললো Ñকেন রে ওটা সেই ভুতের জংগল ।
ভারি মজা তো !
কেন যাবি নাকি  ঐ  ভুতের জংগলে ?
কেন যাওয়া যায়না কি ?
উঁহুঁ ! লোকেরা সহজে ও ভুতের জংগলে যায় না । ভেতরে  একটা বড় পুকুর আছে। খুব মাছ ওতে ।লোভে পড়ে কেউ মাছ ধরতে গেলে সে আর ফিরে আসে না  । দলবল নিয়ে লোকেরা একবার মাছ ধরতে গিযেছিলো ্ মাছও পেয়েছিলো অনেক । শেষে দেখে খলুইর মধ্যে দু একটি মাছ ছাড়া সবগুলো উধাও । টএ ভুতের পুকুরের  আশেপাশে বাস করে এক ধরনের ভুত । তারা মাছ খেকো বা মোছা ভুত।তারা মাছ খেয়ে বেঁচে থাকে । গরমের দিনে ঠিক দুপুর বেলা আবার কখনো পূর্নিমা রাতে ভুতেরা ঐ পুকুরে গোছল করে । হৈ চৈ করে সাঁতার কাটে ।
কালে ভদ্রে  কেউ কেউ এ সব দৃশ্য দেখতে পায় । ভয়ে কোন মানুষ  ভুতের  পুকুরে গোছল করার সাহস পায় না ।
দাদুভাই ,তুমি কি জানো কতদিন ধরে ঐ জংগল  আর পুকুর ভুতের দখলে আছে ? তোমার দাদুভাইএর মুখে শুনেছি পলাশির যুদ্ধের পর থেকেই ভুতেরা ্ এ 
 অঞ্চলে বসবাস করছে। আর জংগলের দখল নিয়েছে পাকিস্তান হিন্দুস্তান হওয়ার বছর । শুনেছি এর আগে পুকুরের আশে পাশে ঘন লোকবসতি ছিলো ।পুকুরটা ছিলো এক জমিদারের ।পুকুরের পানি সে সময় সবাই ব্যবহার করতো ।ঝোঁপ ঝাড় আর জংগল ছিলো না । ঐ পুকুরে জমিদারের দুই বালক পুত্র ডুবে মরার  পর জমিদার তার বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যায় । স্বপ্নে তাকে বলা হয়েছিলো Ñএ ¯থান ছেড়ে না গেলে  একে একে  তাদের সবাইকে মরতে হবে । ক্রমান্বয়ে লোকজন এ জায়গা ছাড়তে শুরু করে । শোনা গেছে জমিদার চলে যাওয়ার পর ভুতের অত্যাচারে লোকজন ঘরবাড়ি আর জায়গা জমি ছেড়ে ওখান থেকে পালিয়ে গেছে । 
                   পুকুরের আশেপাশে জংগলের ভেতর  এখনো অনেক ভাংগা           বাড়িঘরের চিহ্ন দেখা যায় । লোকজন চলে গেলেও ও জায়গায় প্রচুর নানা  ধরনের গাছপালা ছিলো  ।গাছে গাছে হরেক রকমের পকপখালি বাস করতো ।তাদের কলকাকুলিতে সব সময় মুখর থাকতো  এ জংগলটা । তারপর এ দেশ স্বাধীন হওয়ার  কিছু আগে থেকেই পাখিগুলো  এ সব গাছপালা ছাড়তে শুরু করে । কেন দাদুভাই ?
তা কি করে বলবো ? তবে আমরা বাড়ি থেকে শুনতামÑরাতের বেলা কারা যেন  সপাৎ সপাৎ করে গাছের পাতার উপর মারছে । আর পাখিগুলো কোলাহল তুলে  দিশেহারা  হয়ে উড়ে পালাচ্ছে ।এ রকম প্রায় রাতে হতে লাগলো তোমার দাদু বলতো  Ñশয়তান ভুতেরা পাখিগুলোর উপর অত্যাচার আর মা রধর শুরু করেছে
আর বোধ হয়  জংগলের গাছপালায় পাখিরা থাকতে পারবে না ।লোকজন দিনের বেলায় গাছের নিচেঅকে মরা পাখি পড়ে থাকতে দেখতো ।
দাদুভাই এর কাছেনদীর ধারের এ জংগল আর তার ভেতরের পুকুরের কথা শুনতে শুনতে ও সবের একটা ইতিহাস যেন আমার মনের মধ্যে স্পস্ট হয়ে  উঠেছে ।তার সাথে বেড়েছে  একটা অদম্য কতুহল ও জংগলে  ঢোকার আর পুকুরটা দেখার  প্রবল ইচ্ছা । ভেতরে হয়ত অনেক কিছু জমা হয়ে আছে , তার মধ্যে না জানি কত কি দেখার আছে । একটা চাপ মনের মধ্যে ক্রমশ বাড়তে লাগলো ।
দাদুভাইএর সাথে থেকে থেকে আর ভুতের গল্প শুনতে শুনতে ভুতের ভয় বলতে গেলে অনেকটা কমে এসেছে।ভুতগুলোকে পাড়াপড়শি আর খেলার সাথীর মত মনে হয়েছে।মাঝেমধ্যে ও সব অশরীরি জীবের সাথে দুষ্টামি করতে শুরি করেছি । ওরাও হাসে আমিও হাসি । যেমন একদিন Ñযে ধামায় দাদুভাই  ওদের খাবার    ্ দিতো ,সে ধামার নিচে আগে থেকেই আমি কাল রংএর শক্ত শরু কৃত্রিম আঁশের রশি লাগিয়ে রেখেছিলাম।তারপর  আমি আড়ালে রশির মাথা ধরে বসে ছিলাম ।
ধামাতে খাবার দেবার পর ধামাটা যখন একটু একটু একটু করে উপরে উঠতে লাগলো তখনই আমি দিলাম এক হেঁচকা টান ।ধামাটা একটা ধাক্কা খেয়ে  নিচে নেমে এলো । কিছুক্ষন থেমে থাকার পর ধামাআবার একটু একটু করে উপরে উঠতে শুরু করলো । আবার দিলাম জোরে এক টান । আবার ধামাটা নি চে নেমে এলো । এভাবে কয়েক বার টানাটানির পর ধামাটা নিচে পড়ে থাকলো অনেক ক্ষন । আমিও চুপ করে থাকলাম । ততক্ষনে ভুতদের নাঁকি কন্ঠের  গান শুরু হয়েছে Ñ মনিভাই দুষ্ট বড় ,আর একটু সবুর করো ।
ভুতদের গান শুনতে শুনতে কিছু টা আনমনা হয়ে পড়েছিলাম । দেখি কি শোঁ শোঁ
করে  ধামাটা উপরে উঠে যাচছ।আমিও দৌড়ে গিয়ে ধামাঠা ধরতে চাইলাম।ততক্ষনে  ধামাটা নাগালের বাইরে চলে গেছে। আমি বোকার মত ধামার দিকে চেয়ে থাকলাম ।ওদিকে ভুতদের  সে কি হাসি আর কিচির মিচির  ।
           আর একদিন এমনিতে দাঁিড়য়ে দেখছি ভুতের খাবারের ধামাটা কি করে উঠে যায় । দেখলাম ধামাটা  একটু উঠে থেমে আছে ।মাঝে মাঝে ধামাটা ঘুরছে । কতুহলি হয়ে কাছে আসতেই ধামাটা আমার মাথার  উপরে উঠে গেলো ।
 আমিস কিছু দূর সরে আসতেই  ধামাটা আবার নিচে নেমে এসেছে । আবার কাছে যেতেই ধামাটা আগের মত উঠে গেলো ।আমি কিছু দূর সরে  আসতেই আবার উঠে গেলো । এভাবে যত বার কাছে য‘াই ধামাটা ততবার ্ উঠে যায় ।
 সরে এলে নেমে আসে । বুঝলাম ভুতেরা আমার সাথে খেলা করছে । শেষ বারে ফিরে আসার সময়  শুনলাম Ñভুতেরা বলছে Ñবোঁকা ! বোঁকা আর হি হি করে হাসছে।       
  দাদুভাই বলে দিয়েছেÑ ভুলেও যেন আমি ভুতের  জংগলে আর পুকুরের ধারে না যাই। যদিও দাদুভাইআমাকে কিছু দোওয়া শিখিয়ে দিয়েছিলো াারে গরায় একটা তাবিজ বেধেঁ দিয়েছিলো  ।
                      একদিন বিকেলেনদীর ধারে বেড়াতে গেলাম ।হাঁটতে খুব ভালো লাগছিলো । হাঁটতে হাঁটতে ভুতের জংগলের  নানা কাহিনী কথা ভাবছিলাম
কখন যে সেই ভুতের জংগলের ধারে এসে উপ¯িথত হয়েছি বুঝতেই  পারিনি ।
চোখের সামনে জংগলের ঝোঁপঝাড়  আর ডালপালা ভেসে উঠতেই বুঝতে পারলাম এতক্ষনে আমি ভুতের জংগলের  একেবারে ধারে এসে পড়েছি । একটা ভয় সারা শরীরে দমকা বাতাশের মত শিহরন খেলে গেলো । ভাবলাম Ñ এখনই  এখান থেকে ফিরে  যাওয়া দরকার ।পিছন ফিরে  দেখলাম  বেলা প্রায় শষ । একটু পরে সন্ধা নামবে । ভুতের কর্মকান্ড শুরু হবে । কিন্তু কি যেন  একটা দুর্নিবার আকর্ষন আমাকে টানছে । বাতাসের  মত  কে যেন আমাকে সজোরে জংগলের দিকে টেনে নিয়ে চললো
                             দাদুভাই বলেছিলোÑএ ভুতের জংগলের ভুতেরা ৭১ এর  স্বাধীনতা যুদ্ধে দুর্ধষ্য পাকিস্তানী খান সেনাদের সাথে যুদ্দ করেছিলো । এ দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকিস্তানী বাহিনীর যখন পুরোপুরি যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে  তখন প্রায এক শত জনের একটি খান সেনাবাহিনী  এ জংগলের ধারে াাস্তানা গেড়েছিলো ।ওদের সাথে কয়েকটা নসাজোয়া গাড়ি অনেক অস্ত্রসস্ত্র র্ইাফেল কামান গোলাবারুদ ছিলো । জংগলের ধারে তাবু গেঁড়ে বেশ বহাল তবিয়তে  অব¯থান  নিয়েছিলো।একটু দূরে  ভারত সীমান্তের কাছাকাছি  বড় একটা বাজারে  তাদে র একটাবড় মিলিটারি ক্যাম্প ছিলো । প্রতি দিন তাদের সাথে  যোগাযোগ করে অপারেশনে  বেরি য়ে পড়তো ।ছোট নদী হলেও । ঐ বাজারের কাছে  তাতে একটা মাঝারি সেতু  ছিলো। সেতুটা রক্ষা করাও তাদের কাজ ছিলো বড় কাজ ছিলো মুক্তিযোদ্ধা খোঁজা আর পাকড়াও করা  ।
মাঝে মধ্যে খান সেনারা আশেপাশেরগ্রামবাসির উপর চড়াও হতো ।গরু বকরি মুরগি জোর করে ধরে নিয়ে যেতো । কিছু লোক জনকেও তারা ধরে নিয়ে গিয়ে
 জংগল ছাপ করা খড়ি বা লকড়ি সংগ্রহ করা  পুকুরে মাছ ধরার কাজে লাগাতো ।রোকজন নিষেধ করেছিলো। বলেছিলো Ñএটা ভুতের জংগল আর ভুতের পুকুর । গাছ কাটলে আর মাছ মারলে ভুতেরা ঘাড় মটকে দেয় ।খান সেনারা ওসব শুনে বলতোÑ কেয়া ! কেয়া ! গর্ধান মটকাতা হ্যায় ? উ তো মুক্তি হ্যায় । হাম উছকো ঠান্ডা করেগা ।
          লোকেরা বন্দুকের গুলি আর মারের ভয়ে ওদের  কাজ করে দিতো ।
 কিন্তু ভুতের ভয়ে তট¯থ থাকতো কখন ঘাড় মটকে দেয় সে জন্য গ্রামের লোকেরা ক্রমে ক্রমে রাতের অন্ধকারে বউ চেলেপুলে নিয়ে অন্যত্র পালিয়ে যেতে
থাকলো । অল্প দিনের মধ্যে আশেপাশের গ্রামগুলো জনশূন্য  হয়ে পড়লে । তোমার দাদুভাই আর কয়েকটি বাড়ির লোকজন শুধু পড়ে রইলো ।
            এমনি করে বেশ কিছু সময় কেটে গেলো ।হঠাৎ একদিন রাতে ভুতের  জংগলে খান সেনাদের চিৎকার আর শোর গোল শোনা গেলো । তারসাথে গোলাগুলি আর  গাছের ডাল ভাংগার শব্দ।কয়েক ঘন্টা ধরে চললো এসব কান্ড ।তারপর চুপচাপ  ।চিৎকার কোলাহল সব থেমে গেলো ।
 লোকজন রাতে কিছুই বুঝতে বা জানতে পারলো না । পরদিন সকালে কয়েকজন  সাহস করে জংগলের কাছে গিয়ে দেখেসব খান সেনার া জংগলের ধারে াার কিছুটা ভেতরে মরে পড়ে আছে । তাদের গায়ে গুলির কোন চিহ্ন তারা খুঁজে পেলো না । বোঝা গেলো সবাই তারা বিনা গুলিতে মরেছে । কেউ কেউ বললো  Ñ অতর্কিতে মুক্তি বাহিন ীর হাতে তারা মরেছে ।গলা টিপে সবাইকে মেরেছ্ ে।অর্ন্যো  বললোÑদুর! খানসেনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধারা কুস্তিতে আর গায়ের জোরে পারবে কি করে ? এতগুলো সেনাকে তারা এভাবে  মারতে পারেনা  তাছাড়া এ অ ্নচলে  মুক্তি বাহিনীর চলাচল কম ।মাঝে মধ্যে দু এক জন আসে খবর সংগ্রহ করার জন্য ।এলে তারা দাদু ভ্ইা এর  বাড়িতে আশ্রয় নেয় ।

                 পরেস বাই  ধরে নিলো  খা সেনারা ভুতের  হাতেই মরেছে । তবুও  একট্ রহস্য থেকে গেলো ।ভযে এ কথা বাইরে কেউই প্রকাশ করলো না । বাজারের ক্যাম্পেও কোন খবর গেলো না । পরদিন কেউ কেউ গিয়ে দেখলো লাশ তাঁবু গাড়ি কমান  আর কিছুই নেই । সবকিছু আগের মত হয়ে আছে ।
খবর পাওয়া গেলো সেই রাত্রে বাজারের পাক সেনারা ক্যাম্প তেুলে পালিয়ে গেছে ।দাদুভাইএর গল্পটা াামাকে এমন আচ্ছন্ন করে রেখেছিলো  যে আর কোন কিছু খেয়াল করতে পারিনি ।
আবার একটা প্রবল আকর্ষন অনুভব করলাম ।একপা দুপা করে জংগলের আরো ভেতরে গেলাম । দেখলাম একটা  পায়ে চলা শর ু রাস্তা ভেতরে ঢুকে গেছে    । গাছের শুকনো পাতায়  সারা  রাস্তাটা ভরে আছে । থ্মাতে পারলাম না । ঐ রাস্তা ধরে হাঁটতে লাগলাম ।  পাতার মৃদু মৃদু শব্দে একটা অজানা রহস্য আমার কাছে ঘনিভূত হচ্ছিলো ।তার সাথে বাতাসে গাছপালার নড়ে ওঠা এবং কিছু বুড়ো পাতার এদিক সেদিক ঝরেূ পড়ার মৃদু শব্দ ।র্শি র্শি করে  কিছু ঠান্ডা বাতাস আমার মুখে চোখে কানে স্পর্শ বুলিয়ে গেলো । মনে হলো সব যেন আমার পরিচিত  । হঠাৎ একটা পেঁচা জোরে ডেকে উঠলো । চমকে উঠলাম । না, ভয় নেই । নিজে নিজে সাহস  সন্চয় করে একটা দোওয়্ াপড়ে বুকে ফুঁ দিলাম ।গলার তাবিজটা ধরে কয়েকবার নাড়া দিলাম ।
মনে পড়লো দাদুভাইএর কথা । বলেছিলো ভেতরে একটা বড় বটগাছ আছে । তার কাছে একটা পোড়ো বাড়ি । ওটাই জমিদার বাড়ি । ভাবলাম পোড়ো বাড়িটা দেখবো ।বট গাছটার কাছে যেতেই একটা ঠান্ডা দমকা বাতাস আমার সারা শরীরে  এসে লাগলো  । বট গাছটার চারদিকে ঘুরে ঘুরে  দেখলাম ।অনেক কালের
পুরানো বট গাছ । লতা নেমে নেমে মোটা হয়ে অনেক গোড়ার  সৃস্টি করেছে ।তার মাঝে মাঝে অনেক ফাঁক তৈরি হয়েছে ।মনে হলো এক সময় কত মানুষ এসে এ গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতো । ভাল করে তাকিয়ে দেখে বুঝলাম Ñজায়গায় জায়গায় বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। হয়ত এতক্ষন কেউ বসেছিলো । এক পা দুপা করে হাঁটছি। হাঁটতে হাঁটতে বটগাছটা পেরিয়ে সামনে কিছু ঝোঁপ ঝাড়ের দিকে গেলাম । দেখলাম Ñ ঝোঁপ ঝাড়ের মাঝ দিয়ে  একটা বড় রাস্তা ভেতরে চলে গেছে ।দুধারে নানা রকমের গাছ।শুনেছি কোন লোকজন ভয়ে ভুতের জংগলের ভেতরে আসে না । তবে রাস্তাটা সদ্য হাঁটাচলা করা রাস্তার মত হলো কি  করে ? এক সময় পাক সেনারা ঘাঁটি করেছিলো, তাও অনেক আগে ।
                  ঐ রাস্তা ধরে হাঁটতে লাগলাম। কিছু দূর ভেতরে যেতেই দেখলাম
 উঁচু পুকুরের পাড় । একটা শুরু রাস্তা পুকুরের দিকে চলে গেছে ।একটা কতুহল আমাকে তাড়া করছে । আমি হেঁটে হেঁটে পুকুরের পাড়ে উঠে গেলাম । অনেক বড় পুকুর । চারদিকেই উঁচু পাড় । দুদিকে বাঁঁধানো দুটি ঘাট।পুকুরের পাড়ে কিছু খেজুরের গাছও রয়েছে।উচুঁ হতে হতে বাঁকা হয়ে পড়েছে ।
পুকুরের স্বচ্ছ পরিষ্কার পানি তবে কালচে ভাব।মাঝে পুকুরের পানিতে কি যেন জোরে নড়ে ওঠার শব্দ হচ্ছে । মনে হলো বড় বড় মাছ আছে পুকুরে ।পুকুরের চার পাশ ঘুরে দেখার প্রবল  ইচ্ছে হলো । এদিকে সূর্য ডুবে যাচেছ বুঝতে পারছি ।ক্রমশ অন্ধকার নেমে আসছে ।তবু হাঁটতে লাগলাম।সব দিক ঘুরে পশ্চিম পাড়ে এলাম। এ দিকটায় গাছপালা ঘন ।গাছপালার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারছে একটা বড় পুরানো দালান  বাড়ি । এ বাড়িটা দাদুভাইএর  গল্পে বলা বলা  সেই ভুতড়ে বাড়িটা নয়তো ? আমার ভেতর থেকে কে যেন বাড়িটার দিকে আমাকে টানছে। যা যা ভেতরে যা , গিয়ে দেখে আয়।একটা ভয় আমার মধ্যে কাজ করছে । তবুও প্রবল আগ্রহ আমাকে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো ।
                         বাড়িটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালণাম।াবরাট বাড়ি।দৈর্ঘে প্রস্তেবেশ প্রশস্ত । দেয়ালগুলো বেশ পুরানো  ।তাতে ছোট ছোট চাপাতি ঘাষ গজিয়েছে। কিন্তু ভেতরটা ঝকঝকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন মনে হলো ।ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকলাম।    ঘরের ছাদ ঠিকই আছে ।     
 
  ===========================================
     
             আমার কিছুটা সাহস ফিরে এলোস ।বললাম Ñও! তুমি বুঝি দাদুভাইএর
   সখি ? তা ভালই হলো।আর একদিন এসে কথা  বলে যাবো ।
না না দাদুভাই,তা হয় না । আমাদের বাড়িতে তুমি এসেছো পরথম দিন । কিছু না খেয়ে যাবে , তাকি হয় ? আয় আয় ঘরের ভেতরে আয় ।
              বাতাসের মত কি যেন একটা ঘরের দিকে গেলো।আমি এক পা দুপা করে ঘরের ভেতরে এলাম। ওমা! একি! ঘরে তো বসার  কিছু ছিলো না ! এখন দেখি চেয়ার  টেবিল সব রয়েছে । ঘরে কেউ নেই ।তবু ভুতো দাদুভাইকে উদ্দেশ্য করে বললাম Ñতমি দাদুভইএর সখি। তোমাকে কি বলে ডাকবো ?
কেন রে ? ভুতো দাদুভাই বলে ডাকবি ।আমিও তোর দাদুভাই।
  এখন আমি যাই ভুতো দাদুভাই ? আমি না গেলে আমার ও দাদুভাই চেঁচামেচি আর খোঁজাখুঁজি করবে । চিন্তায় মরে যাবে ।
 তুমি কোন চিন্তা করো না দাদুভাই। আমি ভুত পাঠিয়ে তোমার খবর ঠিক জানিয়ে দেব ।আমি এ ভুতের জংগলের রানী । বলে আবার সেই হাসি হাসতে লাগলো ।                                             
        আমি বললামÑ ও ভুতো দাদুভাই তোমাকে যে দেখতে পাইনা ?
        না দাদুভাই , আমাকে দেখতে চেওনা দেখলে ভালো লাগবে না ।বুড়ো হয়েছি ,শরীরে কিছু নেই।তা ছাড়া আমরা তো হাওয়ার মত। যেকোন রূপ ধরতে পারি । মানুষ জীব জন্তু সব কিছুর ।তবে সব সময় ধরি না ।                       
         আমি আবদার ধরলামÑ ও ভুতো দাদুভাই, আমার সামনে রূপ ধরে এসো না ! ন্ দেখে কি গল্প করা যায় ?
          তুমি বলো কি রূপ ধরলে তুমি খুশি হবে ? কার মত ?
          সে তুমি জানো । তবে আমার যেন ভালো লাগে । ভয় না পাই ।আমার  চার দিকের বাতাসগুলো কাঁপতে লাগলো । একটা শোঁ শোঁ আওয়াজ হলো । তার পর থেমে গেলো । একটু পরে পাশের ঘর থেকে শাড়ি পরা একজন বয়ষ্ক সুন্দরি মহিলা বেরিয়ে  এলো ।
এবার পছন্দ হলো তো ?
কিছুক্ষন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম ।মুখে শব্দ বের হলো Ñ এতো সুন্দর তুমি ভুতো দাদুভাই ?
  নারে না,আমি হয়েছি তোমার দাদভাইএর বোনের মত । তুমি দেখোনি । দেখবি কি? তোমার তো বয়স তখন দুএকদিন ।
  ভুতো দাদুভাই, তুমি সে কথা জানো কি করে ?
  জানি রে  তোদের সব কথা জানি আমি ।
  ও ভুতো দাদুভাই,তোমার কি বিয়ে হয়েছিলো ? ভুতের কি বিয়ে হয় ?
  কেন রে বিয়ে করবি নাকি ?
  ধুৎ ! ভুতকে আবার বিয়ে করা যায় ?
  আবার একটা নাঁকি হাসি ঘরটাকে ভরে দিলো । বেশ কিছুক্ষন পর ভুতো দাদুভাই বললো Ñ বিয়ে থা না করলে ছেলে পুলে হলো কি করে ? আমার অনেক ছেলে পুলে নাতি নাতনি আছে । পরে ওদের ডাকবো । তখন দেখবি এ ঘর দোর ভরে যাবে ।
   ওরা আমাকে কিছু বলবে নাতো ?
   দুর বোকা ! তা বলে নাকি ? তোমার কোন কোন ক্ষতি ওরা করবে না। তুমি তো আমদের  মেহমান – কুটুম ।আমার সখির নাতি ।ওরা তেমাকে আদর করবে যা খেতে চাবে খাওয়াবে ।
 আচ্ছা ভুতো দাদুভাই, তোমার বয়স কত ?
  সে আর কত হবে  । এ ধরো সত্তুর হাজার বছর  ।
  ওরে বাপরে ! এত বয়স তোমার  ?এতদিন  তোমরা বাঁচো ?
  হ্যাঁ দাদুভাই ,আমরা এ রকমেই বাঁচি । সহজে মরি না ।
  সে কি ! তোমরা তো মরে গিয়ে ভুত হও। আবার মরবে কি?
  তোমরা ভুল জানো ।ভুতেরা একটা জাতি । ভুত আর জ্বিন একই বংশ থেকে এসেছে ।
  আমরা তো জানি মরে গিয়ে যারা কবর বা শ্বশানে জায়গা পায়না ,তাবাই ভুত হয়ে যায় । গাছে গাছে জংগলে বনবাদাড়ে শ্বশানে মশানে পাহাড় পর্বতে ঘুরে বেড়ায় ।
  হিঁ হিঁ করে দুষ্ট হাসিতে ভুতো দাদুভাই বললোÑতোমরা কিছুই জানো না। তোমরা ভুল শুনেছো।মরে গিয়ে কেউ ভুত হযে আসে না ওটা কিছু মানুষের বানানো কথা । আসলে মানুষের মত দলে দলে এ পৃথিবীতে বসবাস করে আসছি । আমাদেরও পাড়া গ্রাম গজ্ঞ থানা জেলা  ও রাজ্য রয়েছে ।আমরাাও মানুষের পাশাপাশি থাকি । তোমরা যেমন আমরাও তেমন আছি ।
  তাহলে জ্বিনেরা তোমাদের কে হয় ?তারা তোমাদের সাথে থাকে কেন?
  না না দাদুভাই , ওরা বড্ড বদমাশ আর বড় ডান্ডাবাজ ।খালি ঝগড়াঝাটি আর মারামারি করে । ওরা আমাদের সাথে থাকরে কি“! আমরা হলাম শান্তি প্রিয় । আমরা কারো ক্ষতি করিনা । তবে কেউ আমাদের ক্ষতি করলে আমরা ছাড়িনা । ঘাড় মটকে দেই ।
  ও দাদুভাই ,তুমি  জ্বিনদের কথা কি বলছিলে ?
  ওরাও আমাদের বংশের ।আমরা একই বংশে ছিলাম । আলাদা হয়ে গেছি ষাট লক্ষ বছর আগে ।
  কি ভাবে আলদা হলে ?
  সে আর বলো না !জ্বিনের বাদশার এক ছেলে মানুষের এক সুন্দরি মেয়েকে দেখে সবকিছু ভুলে যায় । বাবা মাকে না জানিয়ে বিয়ে করে।বাদশা রাগে তাকে নির্বাসন  দেয় এক নির্জন দ্বিপে । সেখানেই মানুষ -বউকে নিয়ে সংসার পাতে জ্বিনযুবরাজ। তাদের অনেক ছেলে পুলে হয় । তারা জ্বিন জাতি থেকে সম্পূর্ন আলাদা হয়ে যায় । জ্বিন আগুনের । তাই ওদের স্বভাব খুব প্রখর । মানুষের বউএর ছেলেপুলে গুলো হলো ঠান্ডা মেজাজের।ওদের মধ্যে আর আগুনের উগ্র তাপ থাকলো না । বাতাসের মত গুন পেলো তারা । সেই রাজার ছেলের বংশ হলাম আমরা । মানুষকে আমরা ভালবাসি । তাই ওদের কাছাকাছি থাকি। জ্বিনরাও আমাদের ক্ষতি করে । তবে কিছু ভাল জ্বিনও আছে ।
   ভুতো দাদুভাই হঠাৎ উঠে বসলো । বললো Ñ ওমা! নামাজ পড়া হয়নি ।সময় চলে যাচ্ছে । পাশের ঘরে চলে গেলো  ভুতো দাদুভাই । আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম।
কিছুক্ষন পর ভুতো দাদুভাই আমার পাশে আবার  এসে বসলো । Ñ কি দাদুভাই,তোমার ভয় পাচ্ছে না তো ?
   না কিসের ভয় ?তুমি তো আছো আমার ভুতো দাদুভাই । আচ্ছা ভুতো দাদুভাই তোমরা নামাজ পড়ো কেন ?
    কেন ভাই ? আমরা যে মুসলমান ভুত । আমর্ ানামাজ রোজা হজ্ব সবই করি । জংগলের দক্ষিন ধারে রয়েছে হিন্দু ভুতের পাড়া। ওরা দেবতা পূজো করে ।  আরো
 একটু দূরে পুব পাশে একট্া খৃস্টান ভুতের পাড়াও রয়েছে ।
    ওদের সাথে তোমাদের মারামারি হয়না ?
     না না কি বলছো দাদুভাই ? ধর্ম রাজনীতি নিয়ে আমরা মারামারি করি না । আমরা সবাই শান্তিতে বাস করি ।
     তোমরা তো খুব ভালো দাদুভাই ।মারামারি ঝগড়া ফাসাদ করো না । আমরা মানুষরা সব সময় ঝগড়া ফাসাদ মারামারি করি।আমরা যদি তেমাদের মত হতাম!
     ভুতো দাদুভাই আমার কথা শুনে খুশিতে কিছুটা গদ গদ  হলো  । Ñ ঠিক বলেছিস ভাই । তুমি তো আমার মানুষ দাদুভাই ।তোমার মত ......................।
কি যেন বলতে চেয়ে কেঁদে ফেললো ।ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে সে কি কান্না আমার মনে হলো । উঠে গিয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেই । উঠলাম । তার মাথায় হাত দিলাম। গাটা ছম ছম করে উঠলো ।মনে হলো তার তো কোন শরীর  নেই। শুধু হাওয়ার মত হাতে পরশ অনুভব করলাম । আবার চেষ্টা করলাম তাকে স্পর্শ করার । কিন্তু বাতাস ছাড়া কিছুই স্পশৃ করতে পারলাম না । তবুও ভুতো দাদুভাই মানুষের মত শরীর ধরে আছে  কেমন করে ?
  ভুতো দাদুভাই এবার মুখ তুলে চাইলো । Ñ না রে,আমাকে ছুঁইতে পারবি না । বস গিয়ে । তোদের মত দেহ থাকলে তো তোমাকে কোলে  করে আদর করতাম । সেটা আমাদের হয় ন ।
   আমি আবার গিয়ে বসলাম । Ñ ও ভুতো দাদুভাই .তুমি এতক্ষন কাঁদলে কেন ?
   একটা বড় দীর্ঘশ্বাস যেন তার ভেতর থেকে বেরিয়ে গেলো । Ñ সে দুঃখের কথা শুনে কি হবে দাদুভাই ? ঠিক তোমার মত আমার একটা নাতি ছিলো ।বাঙরা দেশের মুক্তি যুদ্ধে শহীদ হয়ে গেছে ।খান সেনাদের গুলিতে মরে গেছে ।
    সে কি ! তোমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছো ?
       করেছি বই কি । তোমরা বুঝি জানতে না ?
       না তো। ও ভুতো দাদুআই, বলো না তোমরা কিভাবে যুদ্ধ করেছো । তোমাদের অস্ত্র সস্ত্র কই ?
        আমাদের অস্ত্র লাগেনা ।আমরা উল্টো দিক থেকে ধরে ঘাড় মটকে দেই ।
         কিনতু ও ভুতো দাদুভাই , তোমাদের তো গায়ে লাগেনা । তোমরা তো বাতাসের  মত ।তোম ার নাতি গুলিতে মরে শহীদ হলো কি করে ?আবার একট্ দীর্ঘশ্বাস  ছাড়লো ভুতো দাদুভাই । Ñ সে খুব দুঃখের কথা ।এমনিতে কোন বন্দুক আর রাইফেলের গুলিতে আমাদের কিছু হয় না ।  ঐ পাক সেনাদের কাছে ছিলো আগুনের বন্দুক । যার গুলিতে আমাদের গায়ে আগুন ধরে যায় । বাতাসেও আগুন ধরে ।ঐ আগুনের বন্দুকের  গুলিতে আমার নাতি মরেছে ।
          ওবুতো দাদুভাই ,বলো না তোমরা কোথায় কিভাবে খান সেনাদের সাথে মুক্তি যুদ্ধ করেছো  ?
             দাদুভাই, তুমি কি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছো ?
            না , ভুতো দাদুভাই । আমার তখন জন্মই হযনি। দেখবো কি করে ? তবে শুনেছি সে ভীষন যুদ্ধ ! আমাদের দেশের ছেলেরা ঐ খান সেনাদের সাথে যুদ্ধ করে ওদের হারিয়ে দিয়েছে । ওরা এ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। আরো শুনেছি ওরা ভয়ানক অত্যাচার করেছে এ দেশের মানুষের উপর ।তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে । নারী শিশু সহ বহু মানুষকে ওরা মেরে ফেলেছে ।
                 টিক শুনেছিস দাদুভাই । সে কঠিন যুদ্ধ । সে যুদ্ধে কত যে মানুষ মরেছে ,তার তুলনায় ভুতেরা কম মরেছে। তবে যুদ্ধ করেছে ভীষন ভাবে
               ও ভুতো দাদুভাই,শুনাও না তোমরা কেমন তরে যুদ্ধ করেছো ?আর যুদ্ধ করলেই বা কেন ?
                কেন ?আমরা এ দেশের বাসিন্দা না ? আমরা কি এ দেশকে ভাল 
 বাসি না ?পাকসেনারা  এ দেশের ক্ষতি করবে ,আমাদের ক্ষতি করবে , আমরা তা সহ্য করে যাবো ? কিছু বলবো না ? চেয়ে চেয়ে দেখবো ?তাছাড়া জীবজন্তু গাছপালা  যা কিছু এ দেশে াাছে ,সব তো আমাদের । সবার দেশ এ বাংলাদেশ বিদেশীরা অন্য দেশ এশে এসে হামলা করবে ,অত্যাচার করবে ,দখল করে নেবে ,আমরা তা সহ্য করবো  ভেবেছো ? আমি সব ভুতকে বলে রেখেছি এরপর আে দেশ যদি বাংলা দেশের ক্ষতি করেেত আসে বা দখল করতে চায় , সে দেশ কে আচ্চা শিক্ষা দেবে ।যাতে ভবিষ্যতে আর কোন দিন এদেশের দিকে চোখ তুলে না তাকায় ।
                                                                                                                                                                     আমি দাদুভাইএর মুখে শুনেছি Ñজংগলে নাকি তোমাদের সাথে পাকসেনাদের ভীষন যুদ্ধ হয়েছিলো ?                                                                       
                      ঠিক শুনেছিস দাদুভাই । আমাদের এ ভুতের জংগল আর তার আশেপাশের অঞ্চল ৭১’এর যুদ্ধের সময় পাকসেনারা দখল করে নিয়েছিলো। 
কত কামান বন্দুক আর গাড়ি নিয়ে তারা এখানে ঘাঁটি করেছিলো । অনেক সৈন্যসামন্ত আর তাদের চেলা চামুন্ডারা এখন তাবু গেঁড়ে বসেছিলো । আশেপাশের গ্রামগুলোতেওরা অত্যাচার চালাতো । ঘরবাড়ি তছনছ করতো ।দিনের বেলা লোকজনদের ধরে । এনে জংগলে বেঁধে রাখতো ।রাতের বেলা তাদের উপর অত্যাচার  করতো ,মেরে ফেলতো । তারপর ওদের  পুঁতে ফেলতো। এখনো অনেক লম্বা গর্ত দেখতে পাবে ।তাদের কতকগলো কবর , আর কতকগুলো ওদের লুকাবার জায়গা। তোমরা ট্রেঞ্চ না কি বলো। ওরা পুকুরটাও দখল করে নিয়েছিলো । মাছ মারতো আর কাপড় চোপড় ধুতো। ইচ্ছামত সাবান দিয়ে গোছল করতো। প্রথম প্রথম আমরা কিছু বলিনি । ওদের কার্যকলাপ আমরা লক্ষ্য করছিলাম । সুে যাগ খুঁজছিলাম কি ভাবে ওদের শায়েস্তা করা যায় । সুযোগ এসে গেলো । ওরা যখন গাছ কাটতে শুরু করে দিলো , বড় বড় চুলায় আগুন জ্বালাতে লাগলো , 
  তখন ভুতেরা গেলো ক্ষেপে । এমনিতে ওরা আগুন সহ্য করতে পারে না ।
   ও ভুতো দাদুভাই, লোকেরা জংগরে মাঠে রাতে ভুতের আগুন দেখে কি করে?
             না দাদুভাই, ওটা তোমাদের ভুল ধারনা । আসলে ওটা ভুতের আগুন নয় , ভুতের আলো।
              বলো ভুতো দাদুভাই, তারপর কি হলো ?
         সব ভুতেরা আমার কাছে এসে জড়ো হলো ।তোমার ভুতো দাদু বেঁচে থাকতে এ সব সামলাতো। তার মৃত্যুর পর সবকিছু দায়িত্ব আমারই ।
 কিছুক্ষন থামলো ভুতো দাদুভাই ।মনে হলো Ñ ভুতো দাদুভাই মনে মনে হয়ত কাঁদলো ।
         বললামÑকি হলো ভুতো দাদুভাই ?
        আমি ভুতের সবাইকে বললাম Ñযারা আমাদের দেশ আমাদের বসত বাড়ি দখল করতে এসেছে তাআ আমাদের শত্র“ ।গাছ কেটে আর চুলার আগুন জ্বালিযে  আমাদের ক্ষতি করছে । গাছগুলো আমাদের আশ্রয় আর থাকার জায়গা। আমি জানতে চাইলাম Ñ আমাদের শত্র“দের তাড়াতে তোরা কি করতে চাও ? সবাই এক কথায় জানালো Ñআমরা যুদ্ধ করবো আমাদের শত্র দের সাথে। এ দেশের মানুষ যেমন যুদ্ধ করছে আমরা ভুতেরাও তেমন যুদ্ধ করবো । ওদেরকে তাড়িয়ে তবে ছাড়বো । বহু জায়গায় আমাদের ভুতেরা শত্র“ সৈন্যের সাথে যুদ্ধ শুরু  করেছে ।
 বললাম Ñ শুনে খুশি হলাম । তোমরা সবাই প্রস্তুত হয়ে যাও । তোমরা কি প্রস্তুত?
 সবাই চিৎকার করে বলে উঠলো Ñ আমরা সবাই প্রস্তুত । তারপর শুরু হলো
স্লোগান Ñ বাংলাদেশ জিন্দাবাদ ! ভুতো রানী জিন্দাবাদ ! ভুতের ঐক্য জিন্দাবাদ !
 শত্র“রা সব নিপাত যাক ! াআমি যুদ্ধের যাবতীয় ভার কদমা ভুতকে দিলাম। ও সব চেয়ে শক্তিশালী  আর বুদ্ধিমান ।
  তারপর কি হলো ?
  তারপর যুদ্ধ ।
   বলো ভুতো দাদুভাই , কি করে যুদ্ধ শুরু হলো ?তোমাদের তো অস্ত্র নেই ।
  আমাদের অস্ত্র লাগে না । আমরা হঠাৎ করে ঘাড় মটকে দেই । গলা চিপে ধরি ।
  আমাদের তো কেউ দেখতে পায়না ।সবাই ভয়েতে এমনি পালায় ।তবে  এ যুদ্ধে ভুতেরা অস্ত্র ব্যবহার  করেছে । খান সেনাদের  কেড়ে নেয়া  অস্ত্র ।
 প্রথমে ভুত যোদ্ধারা গাছে গাছে আলো জ্বালিয়ে নানা বিকট শব্দ করে ওদের ভয দেখায় । ওদের কমান্ডার গাছের আলোগুলোকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে । সে কি গুলি ! তুমুল গোলাগুলি ।
  অত গুলি করে ওদের কি কোন লাভ হয়েছে ?
  লাভ ওদের হযনি । তবে আমাদের কিছু ভুত মারা গেছে । তার মধ্যে আমার ছেলে আর নাতি ছিলো  । বলেছিলাম ওদের হাতে আগুনের বন্দুক ছিলো । ঐ আগুনের গ্যাসে ওদের শরীর ঝলসে যায় । আর ভেতরের বাতাস নষ্ট হলে ওরা মরে যায় ।
  আমার ছেলে আর ন াতি খুবই সাহসী ছিলো । ঠিক তোমার মত কোন কিছুতে ভয় পেতো না । ওরা গাছের ডালে  বসেছিল মজা দেখবে বলে ।ওরা ওখানেই আহত হয ।একদিন পর মারা যায় । ঐ দিকে ওদের কবর  আছে । তোমাকে দেখাবো ।
  তারপর কি হলো ?
  তারপর ভুত কমান্ডার ভুতদের হুকুম দিলো Ñ ইঁট পাটকেল মেরে ওদের কাবু করে ফেলো । শুরু হলো ইঁট পাটকেল ছোঁড়া । কারো মুখে, কারো মাথায় ,কারো চোখে,
 কারো পিঠে পেটে পড়তে লাগলো সমান তালে ঢিল। আহত হতে লাগলো শত্র“ সেনারা । উপরে বসে আমি দেখছিলাম। প্রথম দুদিন এভাবে গেলো । ভাবলাম ওরা ভয়ে সরে যাবে। না ওরা গেলো না। বরং উল্টো গুলি ছুঁড়তে লাগলো ।
  আমি হুকুম দিলাম Ñ ওদের সবাইকে ধরে ঘাড় মটকে দাও আর অস্ত্র সস্ত্র কেড়ে নাও । যেই হুকুম সেই কাজ । রাতে পাক সেনাদের  এক এক করে ঘাড় মটকে দেওয়া হলো।তাদের সব অস্ত্র এনে জমা করা হলো একটা বড় গাছের নিচে।    শত্র“সেনার সব অসার মৃত দেহ ছড়িয়ে ছিটিযেয় পড়ে রইলো ।
    গোলাগুলির আর কোন শব্দ নেই। সবকিছু নীরব শান্ত । এখানকার মানুষেরা ভাবলো Ñ পাক সেনারা ক্যাম্প তুলে নিয়ে  চলে গেছে । একদিন পর সাহস করে দু ্একজন গ্রামবাসি ভয়ে ভয়ে দেখতে এলো । এসে দেখলো খান সেনারা সব মরে পড়ে আছে । গায়ে আঘাতের কোন চিহ্ন নেই। সবাই ঘাড় কাত হয়ে পড়ে আছে ।
  বুঝলো সব খানসেনা খতম । তখন তারা বলাবলি শুরু করলো Ñ কে এদের মারলো ? আজব ব্যাপার ! নিশ্চয় ভুতেরা  এদের মরেছে ।তারা আনন্দে ফেটে পড়লো । চিৎকার করতে লাগলো Ñ খানসেনা সব শেষ ।
       আমি বলরাম Ñ ও দাদুভাই, খবর শুনে আর খানসেনারা এলো না ?
       না দাদুভাই । হয়ত খবর পেয়েছিলো , ভয়ে তারা এদিকে আসেনি । কারন পাশের পাকসেনা ক্যাম্পেও ভুতেরা চড়াও হয়েছিলো ।বিস্তর মারধর করেছে । তবে কাউকে মেরে ফেলেনি । ওরা ভয়ে সেদিনেই পালিয়ে গেছে ।
       লাশগুলো ?
       হ্যা ,ওরা শত্র“ হলেও মুছলমান ছিলো । আমরা মুছলমান ভতেরা মিলে ওদের জানাজা পড়ে জংগলের ভেতর কবর দিয়েছি । ওদের জিনিস পত্তর আর গাড়িগুলো পুকুরে ফেলে দিয়েছি  । সব পরিষ্কার। শুধু ওদের রান্না তরার চুলা আর খোঁড়া গর্তগুলো এখনো আছে । তবে গাছের পাতা , আবর্জনা ময়লা ধুলোবালি পড়ে আস্তে আস্তে ভরে যাচ্ছে ।
        আচ্ছা দাদুভাই , তোমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছো । তোমরা মুক্তিযোদ্ধা । তোমরা পুরষ্কার চাওনা ?
          কি যে বলো দাদুভাই! আমরা যুদ্ধ করেছি আমাদের  দেশের  জন্য ,আমাদের মাতৃভূমি জন্য। তার জন্য আমরা কোন মজুরি চাইনা  ।পুরষ্কার কোন কিছু নেয়া মানে তো মুক্তিযুদ্ধের মজুরি নেয়া। আমি শুনেছি তোমাদের মানুষের মধ্যে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে তারা অনেক বাড়ি গাড়ি টাকা পয়সা বাগিয়েছে। পুরষ্কার হিসাবে অরেক কিছু পেয়েছে । তোমাদের মানুষগুলো ভীষন লোভী দাদুভাই । নিস্বার্থ ভাবে কিছুই করতে চায়না ।শুধু পেতে চায় সম্পদ গাড়ি বাড়ি কাড়ি কাড়ি টাকা আর ক্ষমতা। সেজন্য তো তোমাদের দেশটার উন্নতি হচ্ছে না । সব াই খাঁই খাঁই করছে ।আমরা চাই মান ুষগুলো দেশের জন্য নিস্বার্থ ভাবে কাজ করুক । এদেশে সবাই সুখে শান্তিতে মিলেমিশে বাস করুক । আর মানুষেরা যেন আমাদের  ভুতদের বিরক্ত না করে ।
          ভুতো দাদুভাই , ভবিষ্যতে কি তোমাদের যুদ্ধ করার কোন পরিকল্পনা   আছে ?
         হ্যাঁ দাদুভাই । ।এছ বই কি!আমরা চাই আমাদের এ দেশটা চিরকাল মুক্ত
  স্বাধীন থাকুক । কেউ যেন  এর দিকে হাত না বাড়ায়। আক্রমন না করে । আমরা পাকিস্তানী সৈনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি । আবার যদি কোন দেশ আমাদের  দেশের উপর আক্রমন চালায় বা ক্ষতি করতে আসে ,তবে আমরা আবার তাদের  বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো । আমাদের বড়  পরিকল্পনা হলো Ñ পৃথিবীতে যেখানে যেখানে অন্যায়ভাবে মানুষ মারা হচ্ছে , ঘরবাড়ি  আশ্রয় ধ্বংস করা  হচ্ছে ,আমরা সেখানে সেখানে ভুত সৈন্য পাঠাবো । সারা পৃথিবীর ভুতদের একটা সম্মেলন আমরা অচিরেই বাংলা দেশে ডাকবো। এ ব্যাপারে আমরা কিছু খবরাখবর পাঠিয়েছি।
    ও ভুতো দাদুভাই ,তোমাদের সম্মেলনে তো সব জাতের ভুত আসবে ?
      আসবে বই কি! তোমাদের মত আমাদের ধর্ম নিয়ে রাজনীতি নিয়ে ঝগড়া ফ্যাসাদ হয় না ।
     ও ভুতো দাদুভাই , অনেক রাত হলো । এখন আমি যাই ! ও দিকে দাদুভাই
   আমার জন্য চিন্তায় মরে যাবে । রাতে ঘুমাতে পারবে না ।
   আরে না না। বলেছি তো , তার কাছে আমি খবর পাঠিয়েছি । তুমি আজ আমাদের মেহমান । তোমাকে নিয়ে আজ রাতে আনন্দ ফ’র্তি হবে , নাচ গান খাওয়া দাওয়া হবে । আমি সব ভুতকে খবর দিয়েছি । আজ তোমার জন্য আনন্দ করবো।
         সে রাতে আমি ভুতের জংগলে ছিলাম । ভুতের  রানীর বাড়িতে সারারাত ভুতের নাচ দেখিছি ,গান শুনেছি । সে কি নাচ আর গান  ! আমিও তাদের সাথে গেয়েছি নেচেছি । ওরা কত ফলমূল আর আম কলা আনারস আমাকে খাওয়ালো। 
          শেষ রাতে কখন যে আমি  ভুতো দাদুভাইএর ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতে পারিনি । যখন ঘুম ভাংগলো, তখন দেখলাম ভোর হয়েছে । বেলা উঠি উঠি করছে । আমার দাদুভাই সেই কাজের লোকটাকে সাথে করে এসেছে আমার খোঁজে ।
  বুঝতে পারলাম আমি ভুতের জংগলের পোড়ো বাড়ির  মেঝের উপর শুয়ে আছি।
  দাদুভাই হাসতে হাসতে আমার হাত ধরে টেনে তুললো ।বললোÑ আচ্ছা তো তুমি দাদুভাই ! কিছু না বলে না কয়ে এ ভুতের  জংগলে ঢুকেছো ? ভাগ্য ভালো তুমি আমার সখির দেখা পেয়েছো । চলো । 

Monday, 21 October 2019

October 21, 2019

১১২ নং ছূরা এখলাছ (বিশ্বাস - Faith ) ।। কাব্যানুবাদ ।। প্রফেসর মুহা: মনসুর উর রহমান

112 bs
Q~iv GLjvQ (wek¦vm ÑFaith )
[ AvqvZ : 4 , i“Kz : 1 , AeZxb© : g°vq ]

`qvjy Kzcvjy Avj­vni bv‡g................|

1.                  mevB‡K e‡j `vI †n ivQzj,
      wZwb Avj­vn whwb GKgvÎ GKK|

2.                 ¯^wbf©i mej wZwb,
      mK‡jB gyLv‡c¶x Zuvi|

3.                 Ji‡m Kv‡iv wZwb b‡nb RvZK,
      Ji‡m Zvi R‡b¥wb †KD|

4.                 mgK¶ Zuvi b‡n †Kn Avi|


              [ Q~iv GLjvQ mgvß ]

Sunday, 20 October 2019

October 20, 2019

১১৩ নং ছূরা ফালাক (প্রভাত /Dower ) ।। কাব্যানুবাদ

113 bs
Q~iv dvjvK (cÖfvZ / Dower )
[ AvqvZ : 5 , i“Kz : 1 , AeZxb© : g°vq ]


K…cvjy `qvj Avj­vni bv‡g ..............|
                     
                        1.                  e‡jv †n ivQ~j ,
                               Avkªq wb‡qwQ Avwg cÖfvZ cÖfyi ,

2.                 Zuvi m„wó hveZxq Awbó n‡Z ,

3.                 †mB Nbxf~Z AÜKvi ivwÎi AcKvi n‡Z ,

4.      (Avkªq wb‡qwQ Avwg )
                                              KzûwKbx bvix‡`i MÖwš’j dzrKv‡ii AcKg© n‡Z ,

                       5.      (Avkªq wb‡qwQ Avwg )
                     wnsmy‡Ki wewØó Awbó n‡Z |


                [ Q~iv dvjvK  mgvß ]

Full-Width Version (true/false)

Search This Blog